গল্পঃ
বাসর রাত
Part: 08 মেহবুব ও সারার বাসর রাত
মেহবুব বাথরুম থেকে এসে দেখে সাবিহা রুমে নেই। ড্রেস চেঞ্জ করে বাইরে এলো। ওকে দেখেই তিতুনরা দুইভাইবোন কাছে এলো।কত গল্প তাদের। মেহবুব তো অবাকই হয় ওরা যে ওরা এত কথা কিভাবে বলতে পারে তারপরও ওর ওদের ভাল লাগে। ওরা একসাথেই নাস্তা করল।সারাক্ষন ও সবখানে সাবিহাকে খুজঁল।খাবার টেবিলেও ছিল না, ও কোথায় কাউকে লজ্জায় জিজ্ঞেসও করতে পারছিল না। তিতলিকে জিজ্ঞেস করে জানলো সাবিহা রান্নাঘরে। ওর শাশুড়ি একবার ডাকছিল তখন ও অন্য রুমে বসে জবাব দিল। সাবিহার এই বিহেভ একদমই ভালো লাগলো না ওর।পরে যখন রুমে গেল
দেখলো সাবিহা আয়নার সামনে মাথা আচঁরাচ্ছে।মেহবুব তারাতারি দরজা দিয়ে ওকে পিছন হতে জরিয়ে ধরল।
-কি করছেন আপনি ছাড়ুন।
-ছাড়বো না আগে বলো তুমি কোথায় লুকিয়ে ছিলা?
-কিচেনে আমার কাজ ছিল।
-ও তাই?তো কি কাজ করতে ছিলা?সবাই তো এদিকে ছিল।
-আপনার জন্য বিষ রেডি করছিলাম।
-ও তাই নাকি তারাতারি দাও খেয়ে ফেলি।
-উফ্।ছাড়ুন আমাকে আমি কিন্তু চিৎকার করব। কথাটাশুনে মেহবুব হো হো করে হাসতে ছিল।
-হাসছেন কেন?
-তুমি চিৎকার করলে কি হবে জান?কেউ তোমাকে বাচাঁতে আসবে না উলটো তোমাকে নিয়ে আসবে। প্রথমে সাবিহা বুঝতে পারে নি পরে যখন পারলো তখন লজ্জায় লাল হয়ে
গেল।
-শোনো আমি তোমার জন্য একটা শাড়ি এনেছি। পরো তো ওটা।দেখি কেমন লাগে শাড়িতে।
-আমি পারব না।
-কেন?তুমি শাড়ি পরতে না জানলে আপু বা মাকে বলো,তারা দিবে।
-আমি শাড়ি পরতে জানি কিন্তু আপনার দেওয়া শাড়ি পরব না আমি। সাবিহার এমন রাফ কথায় মেহবুবের মাথা খারাপ হয়ে গেল।ও সাবিহার হাত জোরে চেপে ধরে বললো,
-কেন পারবা না?হুম বল। সাবিহা ব্যাথায় আহ্ করে উঠল,ওর চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা পানি টপকিয়ে পরল।সাথে সাথে মেহবুব ওর হাত ছেড়ে দিল।আদুরে গলায় বললো – সরি।
-কেন পরব আপনার দেওয়া জিনিস আমি? কে আপনি,কি হন আমার? এরই মধ্যে ভুলে গেছেন যে আমি আপনার জন্য যখন প্রথম একটা পাঞ্জাবি কিনি আপনি ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন গাড়ির ড্রাইভারের সামনে।আমি সেদিন কিছু বলি নি। তারপরে বাসায় ফিরে আপনার বন্ধুকে কি বলেছিলেন ভুলে গেছেন?আমি ছোট লোক,সংসার করার মতো মেয়ে না আরও কত কিছু।এখন কেন এত দরদ উঠলো এই ছোটলোকের উপর।
-সাবিহাআস্তে চিৎকার কর না। তুমি বাসার সবাইকে জানাতে চাও?ওটা আমার ভুল ছিল, আমি তো বরাবরই তা বলে আসছি। এখন শুধু আরও একবার সুযোগ দাও প্লিজ।
-না আমি থামবো না,থামবো কেন?সবারই জানা উচিৎ আপনার আসল চেহারা। আপনি আমাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়েছেন। আজ আমি সব বলবো সবাইকে। এই বলে সাবিহা রুম থেকে বের হওয়া ধরছিল।মেহবুব ওর হাত জোরে ধরে বিছানার উপরে ফেলল।তারপর ওর উপর ঝুঁকে বলল,
-অনেক বলছো।আমি এতদিন শুধু শুনছি আর তোমাকে সময় দিয়ে দেখেছি তুমি কি কর।তোমাকে সময় এজন্য দিয়েছিলাম যাতে তুমি আমাকে একটু বুঝ। এবার আমার ধৈর্য্য শেষ।
-কি বুঝবো আমি আপনাকে? একটা খারাপ,বেয়াদব, মাতাল, জেদি, যে কাউকে সম্মান করতে জানে না তাই বুঝবো।আমার বোঝা হয়ে গেছে আপনাকে। আপনি চলে যান এখান থেকে।আমি যাব না আপনার সাথে।
-সাবিহা ভদ্র ভাবে কথা বলো।আজ হঠাৎ করে এত রাগ উঠলো কেন? এতদিন তো বেশ ভাল ভাবে মিশছো।হয়ত নরমাল কাপলের মতো ছিলাম না কিন্তু কম ছিলাম কোথায় বলো?আমাদের একএে ঘুরে বেড়নো,ফোনে গল্প করা,আমার অফিসের কাজের ফাঁকে তোমার বাসায় যাওয়াআসা এসব স্রৃতি সব ভুলো যেতে পারলা। হ্যা আমি তো বলছিই যে আমার সমস্যা ছিল।একবারও তো তোমাকে মিথ্যা বলি নি।আজ এভাবে তোমার জন্য এতটা পথ আসার পর এমন অভদ্রতা করছো?
-কি ভদ্র ভাবে কথা বলবো আপনার সাথে?হ্যা আমি মিশেছিলাম আপনার সাথে তার মানে এই না পিছনের কথা সব ভুলে গেছি আর কোনদিন তা ভুলবোও না। আপনি এখান থেকে চলে যান।ঢাকা গিয়ে ডির্ভোস লেটার পাঠিয়ে দিবেন,আমি সাইন করে দিব। এই বলে ও রুম থেকে বের হয়ে আসে। সাবিহার এমন ব্যবহারে মেহবুব খুব কষ্ট পেল।কি বলবে বা করবে আসলে যা করার ও তো তা আগেই করে
ফেলেছে সাবিহাকে ওর জীবন থেকে চলে যেতে বলে, সব
দোষ তো ওরই।সাবিহাও বা এখন মানবে কেন!!? সারাদিন আর সাবিহার দেখা পেল না,মেহবুবও ওকে দেখার কোন আগ্রহ দেখালো না।তবে ওর যে মন খারাপ তা কাউকে বুঝতেও দিল না। বিকেলে ওরা ঘুরতে বেরোল, সাবিহার বোন, ওর দুলাভাই। সাবিহাকে ওর বোন অনেক জোরাজুরি করল কিন্তু সাথে আনতে পারল না।মেহবুবেরও ঘোরার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু বাসার বাইরে একটু হাপঁ ছারবে তাই বেরোনো।
সাবিহার বড় বোন আর দুলাভাইয়ের খুনসুটি, তাদের বাচ্চাদের সাথে খুন সুটি ওর নজর কারল।ইস্ ও আর সাবিহাও তো চাইলে পারে এত সুন্দর একটা ফ্যামিলি বানাতে। তা কি আদৌ হবে।একটা মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কি আর সংসার করা যায়?!!কিন্তু হ্যা ও করবে।সাবিহা হ্যা না এখন ওর কাছে মেটার করে না লাগলে ঢাকা নিয়ে রুমের মধ্যে আটকিয়ে রাখবে।এখন দোষ তো সাবিহারই,কোনো ও এত ভালো হয়েছিল ওর কাছে?কেন ওকে মুগ্ধ করছে?এখন আর ছাড়তে পারবে না। রাতে খাবার সময় টেবিলে ওর পাশের
চেয়ারেই সাবিহা বসে ছিল।ও করলো কি লবনের বাটি নিয়ে সবার অলক্ষে সাবিহার প্লেটে লবন ঢেলে দিল।সাবিহা ওর দিকে আগুনের দৃস্টি নিক্ষেপ করল কিন্তু এমন ভাব করল যে কিছুই হয় নি। সাবিহা রাগ করে উঠে চলে গেল।যখন রুমে
গেল দেখে সাবিহা বিছানায় বসা।ওর উপর বিরক্তি নিয়ে বলল,
-আমার পিচ্চি বউ আমার জন্য বসে আছে?আহা কষ্ট করার কি দরকার?
-আপনি খুব খুব খারাপ।
-আর তুমি খুব খুব ভাল।হইছে এবার? এখন বলো ঢাকা কবে ফিরছ?সিরিয়াসলি কথা বলবা ঢং করে কথা বলবা না।তোমার জন্য আমার অফিস বন্ধ যাচ্ছে। আমি সিনেমার নায়কের মতো তোমার পিছনে ঘুরতে পারব না সে বয়স আমার শেষ।যদি আরও কম বয়সে পেতাম তোমাকে তাহলে
করতাম। ওর কথায় ও নিজেই হেসে দিল।
-আমি যাব না।বলেছি না?আর আপনার নিজের বয়সে কেন অন্য মেয়েদের সাথে ঢং করতে গিয়েছিলেন? এখন বুড়ো বয়সে আমাকে পেয়েছেন না?আমি যাব না।
-আমি তোমার না শুনার জন্য জিজ্ঞাস করছি না।কখন যাবা টাইমটা জানার জন্য জিজ্ঞেস করছি।
-আপনি আমাকে জোর করে নিয়ে
যাবেন?
-আপনি খুব খুব খারাপ।
-আর তুমি খুব খুব ভাল।হইছে এবার? এখন বলো ঢাকা কবে ফিরছ?সিরিয়াসলি কথা বলবা ঢং করে কথা বলবা না।তোমার জন্য আমার অফিস বন্ধ যাচ্ছে। আমি সিনেমার নায়কের মতো তোমার পিছনে ঘুরতে পারব না সে বয়স আমার শেষ।যদি আরও কম বয়সে পেতাম তোমাকে তাহলে
করতাম। ওর কথায় ও নিজেই হেসে দিল।
-আমি যাব না।বলেছি না?আর আপনার নিজের বয়সে কেন অন্য মেয়েদের সাথে ঢং করতে গিয়েছিলেন? এখন বুড়ো বয়সে আমাকে পেয়েছেন না?আমি যাব না।
-আমি তোমার না শুনার জন্য জিজ্ঞাস করছি না।কখন যাবা টাইমটা জানার জন্য জিজ্ঞেস করছি।
-আপনি আমাকে জোর করে নিয়ে
যাবেন?
-হ্যা দরকার হলে তাই করব।তুমি কালই আমার সাথে ঢাকা যাচ্ছ। যদি না যাও আমি তোমার পারসোনাল লাইফ,ফ্যামিলি আর প্রফেশনাল লাইফ সব শেষ করে দিব এবং তুমি তা জানো আমার সে ক্ষমতা আছে।তোমার ফ্যামিলি তোমার কাছে। রাতে সাবিহা কাদঁতে কাদঁতে কখন যে ঘুমিয়ে পরছে নিজেই জানে না।ঘুম ভাঙল ওর মায়ের ডাকে,
-সাবিহা মা উঠ।
-না মা আরো একটু পরে।
-আরে মেহবুব কখন উঠেছে আর তুই এখনও শোয়া।তারাতারি উঠ মা।
-সে উঠছে বলে আমাকেও উঠতে হবে নাকি? আমি কি তার গোলাম?কিনে রেখেছে নাকি?পাজি লোক একটা।
-ছিঃ মা ওমন করে বলে না।
-আমি পারব না তার সম্পর্কে ভাল কথা বলতে।তুমি যাও। এর মধ্যে মেহবুব রুমে ঢুকলো।সাবিহা ভয় পেল ওকে দেখে যদি ও শুনে ফেলে।কাল রাতে মেহবুবের ধমক মনে পরে গেল, সাথে সাথে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল।
-বাবা দেখ তো কখন থেকে ডাকছিউঠছে না।তোমাদের রওনা দেবার টাইম হলে গেল, ও কখন উঠবে?নাস্তা করবে কখন আর রেডিও বা কখন হবে?
-আচ্ছা মা আমি দেখছি।
-আমি উঠবো না।–সাবিহা বললো। মা রুম হতে বের হয়ে যাবার পর ও সাথে সাথে বাথরুমে ঢুকলো,দরজা বন্ধ করতে যাবে তখনই মেহবুবও দরজা জোরে ধাক্কা দিয়ে ঢুকল।
-তুমি আমার নামে মাকে কি বলছিলা?আমি
পাজি? এই রে!! লোকটা শুনে ফেলছে?? সাবিহা ভাবলো।
-পাজির আর দেখছো কি??আমার সাথে ঢাকা না গেলে এই পাজির আরও অনেক খারাপ চেহারা দেখবা। বলেই ও সাবিহার উপর শাওয়ার ছেড়ে দিল।পরে দরজা চাপিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বের হয়ে গেল।সাবিহার মন প্রচণ্ড খারাপ হলো।এই লোকের সাথে থাকলে ও মরেই যাবে। যেভাবেই হোক ঢাকা যাওয়া আটকাতে হবে আজ।মেহবুবের তিনদিন ছুটি,সে হিসেবে আজ শেষ দিন।এমনিতেই সেনাবাহিনীতে ছুটি ছাটা তেমন নেই,তো কাল ওকে যেভাবেই হোক অফিসে জয়েন করতে হবে। ও যদি কোন ভাবে লুকিয়ে পরতে পারে তাহলে মেহবুব ওকে ছাড়াই চলে যাবে ফলে ও ও বেঁচে যাবে।যেই ভাবা সেই কাজ।বাথরুম হতে বের হয়ে ড্রেস চেঞ্জ করলো,বাইরে এসে দেখে মেহবুব নাস্তার টেবিলে। ওকে দেখেই মুচকি হেসে দিল। সাবিহাও হাসলো।
-আমি উঠবো না।–সাবিহা বললো। মা রুম হতে বের হয়ে যাবার পর ও সাথে সাথে বাথরুমে ঢুকলো,দরজা বন্ধ করতে যাবে তখনই মেহবুবও দরজা জোরে ধাক্কা দিয়ে ঢুকল।
-তুমি আমার নামে মাকে কি বলছিলা?আমি
পাজি? এই রে!! লোকটা শুনে ফেলছে?? সাবিহা ভাবলো।
-পাজির আর দেখছো কি??আমার সাথে ঢাকা না গেলে এই পাজির আরও অনেক খারাপ চেহারা দেখবা। বলেই ও সাবিহার উপর শাওয়ার ছেড়ে দিল।পরে দরজা চাপিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বের হয়ে গেল।সাবিহার মন প্রচণ্ড খারাপ হলো।এই লোকের সাথে থাকলে ও মরেই যাবে। যেভাবেই হোক ঢাকা যাওয়া আটকাতে হবে আজ।মেহবুবের তিনদিন ছুটি,সে হিসেবে আজ শেষ দিন।এমনিতেই সেনাবাহিনীতে ছুটি ছাটা তেমন নেই,তো কাল ওকে যেভাবেই হোক অফিসে জয়েন করতে হবে। ও যদি কোন ভাবে লুকিয়ে পরতে পারে তাহলে মেহবুব ওকে ছাড়াই চলে যাবে ফলে ও ও বেঁচে যাবে।যেই ভাবা সেই কাজ।বাথরুম হতে বের হয়ে ড্রেস চেঞ্জ করলো,বাইরে এসে দেখে মেহবুব নাস্তার টেবিলে। ওকে দেখেই মুচকি হেসে দিল। সাবিহাও হাসলো।
রোমান্টিক গল্প প্রেমের গল্প ভালোবাসার গল্প
-দাঁড়া বেটা হাসি বের করছি।আমাকে না নিয়েই যখন যেতে হবে তখন এই মুখের বড় বড় কথা বা হাসি থাকবে না। ও তরিঘড়ি করে সবার অলক্ষে বাসার বাইরে এলো।বাসার একটু দূরে একটা খোলা জায়গা ছিল সেখানে পাশের বিল্ডিংয়ের ইট রাখা ছিল।ওর পিছনেই লুকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।খুব অসস্তি হচ্ছিল ওর,না জানি কে দেখে ফেলে আবার। পাচঁ মিনিট অন্তর অন্তর মোবাইলে ঘড়ি দেখছিল।মনে হচ্ছিল দীর্ঘ ক্ষণ
দাঁড়িয়ে আছে।একটু পর দেখলো মেহবুব ফোন দিসে।ও ফোন অফ করে রাখলো।
-থাক বেটা এখন। মাঝে ফোন অন করে ঘড়ি দেখল দেখে সাড়ে আটটা বাজে। তারাতারি আবার ফোন অফ করলো আবার না জানি কে ফোন দেয়!!ফোনটা সুইচ অফ করে যেই পিছনে অবচেতন মনে ঘুরলো ঠাস্ করে একটা চড় পরলো ওর গালে।ঘটনার আকস্মিকতায় ও পুরো থ। ব্যাথায় আহ্ করে উঠলো,তাকিয়ে দেখে যে মেহবুব সয়ং ওর সামনে দাঁড়িয়ে। রাগে থর থর করে কাঁপছে ওর দিকে তাকিয়ে।জোরে হেচঁকা টান দিয়ে ওর হাত চেপে ধরল।
-আহ্ লাগছে তো ছাড়ুন।
-এত সহজেই ছাড়বো ভাবছো?আজ যে অবস্থা করছো এর পর আর তোমাকে ছাড়বো ভাবছো?ডাইনিং টেবিলে বসে তোমার আজ হঠাৎ করে হাসি আমাকে অবাকই করছে,প্রথমে খুশি হইছিলাম নাহ্ বউ আমার পেচাঁর মতো মুখের বদলে হাসি দিছে পরে তোমার ফোন অফ পেয়ে মনে হইছে যে, যে শয়তান সে কি এত সহজে শয়তানি ছাড়ে??নিশ্চই আবার পালাইছে।
-আমি মোটেই শয়তান না শয়তান আপনি। আপনার জন্যই আজ আমার এই অবস্থা।
-ওই তো পাইছো জীবনে একটা দোষ তাই তো কিছুই বলতে পারি না। নইলে আজকে যে কি করতাম চিন্তাও করতে পারবা না খালামনি।
-আমি যাব না, যাব না।
-আচ্ছা তোমার কি দয়া মায়া নাই কোন? আমি তোমার জন্য এতকিছু করছি, পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছি,অফিসের শত কাজ সত্যেও তোমার জন্য আমি এখানে আসছি আর তুমি কি করছো?ছোট বাচ্চাদের মতো জেদ।একবার ফিরে চলো প্লিজ, পিছনের কথা ভুলে।আমি হাজবেন্ড হিসেবে ওতটাও খারাপ না সাবিহা। সময় আমাকে খারাপ করছিল।
-আপনি আমাকে মারছেন।এখনতো আমি যাবই না।
-তাই না তাহলে শুনো এতদিন যে আমার খারাপ চেহারা দেখছো তার থেকেও খারাপ চেহারা দেখার জন্য রেডি থেক।
তোমার আর তোমার ফ্যামিলির সাথে যা কিছু হবে তার জন্য তুমিই দায়ী আমি না। এই বলে ওর হাত ছেড়ে দিয়ে মেহবুব ফিরে চললো।ও ওর কথায় খুব ভয় পেল।তখন সাবিহাও ওর পিছন পিছন চললো।বাসায় ফিরে ওর কাছে হাজারটা
প্রশ্ন। ও কিছুই বললো না।তবে জানলো এর পিছনে তিতুনের হাত। ও নাকি ওকে উপর থেকে দেখেছে কোথায় যাচ্ছে ও।
-তিতুন চামচা দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা। মনে মনে ভাবলো কিন্তু সে গিয়ে তার আংকেলের কোলে চড়ল।তাই কিছু বললো না।ঠিক হলো যে রাতের গাড়িতে ওরা যাবে ঢাকায়।সাবিহা এই সুযোগে বুদ্ধি করলো যে সেপারেশন লেটারটা সবাইকে দেখিয়ে দিবে,অনেক হইছে আর না। মেহবুবের সত্যি ফাঁস আজ করবেই করবে।তখন রুমে গেল গিয়ে আলমারি হতে ব্যাগটা বের করল দেখলো লেটারটা নেই।সব জায়গায় খুঁজলো কোথাও নেই। মেহবুব হঠাৎ বলে উঠলো-লেটারটা খুজঁছো নাকি?আহারে পাচ্ছ না, না?ইস্ দেখ তো কোনার ঐ ময়লার ঝুড়িতে নাকি? সাবিহা দৌড়ে গেল ঝুড়ির কাছে,দেখল পুরো এনভেলাপটা ছিড়েঁ টুকরো টুকরো করা।
-আপনি এ কি করেছেন?
-ছিড়েঁ ফেললাম। আলমারিতে কাপড় রাখার সময় ওটা তোমার ব্যাগে চোখে পরছিল,তখন পেলাম।তাতেও কিন্তু দোষ তোমারই কেন তুমি এত ইম্পরট্যান্ট জিনিস ব্যাগে রেখে ব্যাগটা আবার খোলা রাখ।এখন দেখ কি অবস্থা। আহারে তুমি এখন মা বাবাকে কি বলবা? মুখ দিয়ে চুক চুক শব্দ করতে করতে বললো,
-তুমি চাইলে আমার ল’য়ারের কাছ থেকে আরেক কপি বানাতে পারি। বলবো?
-চুপ করুন আপনি।একদম চুপ। হা হা করে হেসে দিল মেহবুব।বলল,
-আমি আমার চাকরি জীবনে অনেক ট্যারা লোককে ম্যানেজ করছি কিন্তু তোমার সাথে খেলে যা মজা পেলাম তা বড় বড় রাঘব বোয়ালকেও হার মানাইছে।এর জন্যই তোমাকে ছারবো না কোনদিন বুঝছ আহ্লাদী?আমি ছাড়া তোমার কোন গতি নেই।যেদিকে পালাও না কেন,তুলে আনব। সারাদিনটা যে কেমন কাটলো সাবিহা নিজেই জানে না,সারাদিন নিজের রুমে ঘুমিয়েই কাটাল। ওদিকে মেহবুবের দম ফেলার সময় নেই। সারাদিন সে ঘুরাঘুরি করলো তিতুনদের নিয়ে, বিকেলে
কিছু আত্নীয়রা এলো তাদের সাথে হাসি মুখে কথা বলা, অফিসের ফোন অ্যাটেন্ড করা,কিছু গোছগাছ করা আর সাবিহার দিকে নজর রাখা তো আছেই।বার বার গিয়ে ওর রুমে দেখতো ও কি করছে সাবিহা তখন ঘুম।ডাকত না ভাবতো কাল রাতে তো কাদঁতে কাদঁতে ঘুমায় নি এখন একটু ঘুমাক। দেখলো সাবিহা কিছুই গুছায় নি।তখন ওকে জোর করে টেনে তুলল,
-এই যে ঘুম কুমারী, তোমার ব্যাগ কে গুছাবে?
-চুপ করুন আপনি।একদম চুপ। হা হা করে হেসে দিল মেহবুব।বলল,
-আমি আমার চাকরি জীবনে অনেক ট্যারা লোককে ম্যানেজ করছি কিন্তু তোমার সাথে খেলে যা মজা পেলাম তা বড় বড় রাঘব বোয়ালকেও হার মানাইছে।এর জন্যই তোমাকে ছারবো না কোনদিন বুঝছ আহ্লাদী?আমি ছাড়া তোমার কোন গতি নেই।যেদিকে পালাও না কেন,তুলে আনব। সারাদিনটা যে কেমন কাটলো সাবিহা নিজেই জানে না,সারাদিন নিজের রুমে ঘুমিয়েই কাটাল। ওদিকে মেহবুবের দম ফেলার সময় নেই। সারাদিন সে ঘুরাঘুরি করলো তিতুনদের নিয়ে, বিকেলে
কিছু আত্নীয়রা এলো তাদের সাথে হাসি মুখে কথা বলা, অফিসের ফোন অ্যাটেন্ড করা,কিছু গোছগাছ করা আর সাবিহার দিকে নজর রাখা তো আছেই।বার বার গিয়ে ওর রুমে দেখতো ও কি করছে সাবিহা তখন ঘুম।ডাকত না ভাবতো কাল রাতে তো কাদঁতে কাদঁতে ঘুমায় নি এখন একটু ঘুমাক। দেখলো সাবিহা কিছুই গুছায় নি।তখন ওকে জোর করে টেনে তুলল,
-এই যে ঘুম কুমারী, তোমার ব্যাগ কে গুছাবে?
-পারব না আমি।
-তা তুমি কোন কাজ টা ঠিকমত করছো বলো? এখন কি তোমার ব্যাগটাও আমাকে দিয়ে গুছাবে?
-হ্যা।
-বাহ্এই না হলে বউ!! বাইরে সবাই আমাকে সম্মান দিয়ে চলে আর ঘরে আমার বউ একফোঁটা দামও দিল না। আফসোস!!
-পারব না দিতে।
-আচ্ছা তোমার কি রোগে পাইছে আমার প্রতিটা কথায় না বলাটা। হ্যা কবে বলবা?
-কোনদিন বলবো না।
-লাগবেও না, আপনার হ্যা শুনার জন্য আমার বয়েই গেছে!! সাবিহা বুঝল এই লোকের সাথে কড়া কথা দিয়ে চলবে না,আদুরে কন্ঠে কথা বলতে হবে।কিন্তু এই কর্কষ বুড়োটার সাথে কথা বলতেও ওর বাঁধে, তো রোমান্টিক কথা কেমনে বলবে। যাই হোক বিছানা থেকে নেমে মেহবুবের সামনে গিয়ে ওকে আস্তে জরিয়ে ধরল তারপর ওর শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বলল,
-তা তুমি কোন কাজ টা ঠিকমত করছো বলো? এখন কি তোমার ব্যাগটাও আমাকে দিয়ে গুছাবে?
-হ্যা।
-বাহ্এই না হলে বউ!! বাইরে সবাই আমাকে সম্মান দিয়ে চলে আর ঘরে আমার বউ একফোঁটা দামও দিল না। আফসোস!!
-পারব না দিতে।
-আচ্ছা তোমার কি রোগে পাইছে আমার প্রতিটা কথায় না বলাটা। হ্যা কবে বলবা?
-কোনদিন বলবো না।
-লাগবেও না, আপনার হ্যা শুনার জন্য আমার বয়েই গেছে!! সাবিহা বুঝল এই লোকের সাথে কড়া কথা দিয়ে চলবে না,আদুরে কন্ঠে কথা বলতে হবে।কিন্তু এই কর্কষ বুড়োটার সাথে কথা বলতেও ওর বাঁধে, তো রোমান্টিক কথা কেমনে বলবে। যাই হোক বিছানা থেকে নেমে মেহবুবের সামনে গিয়ে ওকে আস্তে জরিয়ে ধরল তারপর ওর শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বলল,
-শুনেন না, আমি না গেলে হয় না??আপনি যান আমি আমার ছুটি শেষ হবার পরে বরং আসি? মেহবুব হঠাৎ ওর এই আচারনের মানে বুঝল যে এটা ওর নতুন ধান্দা।এই মেয়ে
আবারও ওকে দৌড়ানি খাওয়াবে। ও ওআরই বেশি আদরের সাথে বলল,
-ওরে আমার পুচঁকি বউ,তোমাকে ছাড়া তো আমার এখন চলেই না, অনেক দূরে থাকছি আর না। তুমি বরং তোমার
হাতে যে কয়দিন ছুটি আছে আমার সাথে আমার অফিসে যেও বরং।আমি ডেস্কে বসে কাজ করব আর তুমি চেয়ারে বসেথাকবা।কাজের ফাঁকে ফাকেঁ তোমাকে
দেখব আমি। সাবিহার ওর এই উলটো রোমান্টিকতায় আরও খেপলো।তখন ওর বুকের উপর ধুপ ধাপ কিল দিল কয়েকটা। মেহবুব ওকে ধরে ফেলল,হাসতে হাসতে বলল,
-আমার প্রেম করার বয়সেও এতটা খাটুনি খাটি নি বুঝলা?
-তাহলে তো আর রিতার কাছ থেকে দূরে সরতে হতো না।–অনেক রাফ ভাবে বলল সাবিহা। এই রে এখন!!উচিৎ হয়নি এভাবে বলা।মেহবুব ওর ৃুখের উপর হতে চুল সরাতে সরাতে বলল,
-তুমি যা জানো না তা নিয়ে কথা বলো না। আমাকে কষ্ট দেবার কোন সুযোগই তুমি ছাড়বা না,না?
আবারও ওকে দৌড়ানি খাওয়াবে। ও ওআরই বেশি আদরের সাথে বলল,
-ওরে আমার পুচঁকি বউ,তোমাকে ছাড়া তো আমার এখন চলেই না, অনেক দূরে থাকছি আর না। তুমি বরং তোমার
হাতে যে কয়দিন ছুটি আছে আমার সাথে আমার অফিসে যেও বরং।আমি ডেস্কে বসে কাজ করব আর তুমি চেয়ারে বসেথাকবা।কাজের ফাঁকে ফাকেঁ তোমাকে
দেখব আমি। সাবিহার ওর এই উলটো রোমান্টিকতায় আরও খেপলো।তখন ওর বুকের উপর ধুপ ধাপ কিল দিল কয়েকটা। মেহবুব ওকে ধরে ফেলল,হাসতে হাসতে বলল,
-আমার প্রেম করার বয়সেও এতটা খাটুনি খাটি নি বুঝলা?
-তাহলে তো আর রিতার কাছ থেকে দূরে সরতে হতো না।–অনেক রাফ ভাবে বলল সাবিহা। এই রে এখন!!উচিৎ হয়নি এভাবে বলা।মেহবুব ওর ৃুখের উপর হতে চুল সরাতে সরাতে বলল,
-তুমি যা জানো না তা নিয়ে কথা বলো না। আমাকে কষ্ট দেবার কোন সুযোগই তুমি ছাড়বা না,না?
-নাহ মানে আমি…..
-একটা মেয়েকে মন দিয়ে ভালবেসে তার কাছ হতে অপমানিত হওয়ার যন্ত্রণা তুমি বুঝবা না সাবিহা।তোমার লাইফেও যদি এমন কেউ থাকত যাকে তুমি ভালবাসো আর সে তোমাকে রেখে চলে গেছে তখন তুমি আমার অনুভূতি
গুলো বুঝতা।তুমি আমার কাছ থেকে শুধূ কাহিনীই শুনছো আমার কিন্তু আমাকে বুজবার চেষ্টাও করনি কোনদিন।
মেহবুবের ব্যাথাতুর চোখের দিকে তাকিয়ে আজ প্রথম ও উপলব্ধি করলো আসলেই তো, ওতো বুঝতে চায়নি ওকে।কিসের জন্য ও এমন করত?মনে পরলো ভাবি একদিন বলেছিল,
-একটা মেয়েকে মন দিয়ে ভালবেসে তার কাছ হতে অপমানিত হওয়ার যন্ত্রণা তুমি বুঝবা না সাবিহা।তোমার লাইফেও যদি এমন কেউ থাকত যাকে তুমি ভালবাসো আর সে তোমাকে রেখে চলে গেছে তখন তুমি আমার অনুভূতি
গুলো বুঝতা।তুমি আমার কাছ থেকে শুধূ কাহিনীই শুনছো আমার কিন্তু আমাকে বুজবার চেষ্টাও করনি কোনদিন।
মেহবুবের ব্যাথাতুর চোখের দিকে তাকিয়ে আজ প্রথম ও উপলব্ধি করলো আসলেই তো, ওতো বুঝতে চায়নি ওকে।কিসের জন্য ও এমন করত?মনে পরলো ভাবি একদিন বলেছিল,
-আমার দেবরটা খারাপ না,সময় ওকে খারাপ বানিয়েছে।
এই লোকটা ওর পিছনে পাগলের মতো ছুটছে,বারবার দেখা করছে।,হসপিটালে, কলেজে আসছে বারবার।প্রতিদিন অফিস শেষে, আবার ছুটির দিনেও ওর ফ্লাটে যেত মেহবুব।ও তো ওকে দেখেই বিরক্ত হতো কেবল।আসলে কি জানার চেষ্টা করছে কেন লোকটা এমন করে??উলটো ও অভিনয় করে বুঝতো, ডির্ভোসের কালি ঢাকতে। সেদিন সেপারেশন লেটারটাই ওর মাথা খারাপ করে দিছে।ও চিন্তা করে নি যে ওটা মেহবুব ওদের বিয়ের পর খারাপ সম্পর্কের সময়ে উকিলের কাছে গিয়েছিল।ও তো তখনই লেটারটা পেত শুধূ পায় নি ওর অসুস্থতার জন্য।মেহবুব ওটা ক্যানসেল করারও সময় বা সুযোগ পায় নি।তার আগেই ওটা চলে আসে সাবিহার হাতে আর তখনই মেহবুব সম্পর্কে ওর নেগেটিভ ধারনা বেড়ে যায়। এরপরে মেহবুব রুম হতে বের হয়ে যায়।বিকেলে ওকে সাবিহা চা দিতে যায়,দেখে বরাবরের মতো তিতুনরা ওকে জেকে ধরেছে।ভাবছিল হয়ত ওর মেজাজ খারাপ করার জন্য ভেঙিয়ে কিছু বলবে মেহবুব। ও ও প্রস্তুতি নিয়েছিল কথার জবাব দেয়ার।নাহ্ উলটো ওর হাতে চা দেখে মেহবুব অবাক হয়ে চায়ের কাপ নিল, কিছু বললো না, চাও খেল না। টেবিলের উপর রেখে দিল। বাসস্ট্যান্ডে পৌছানোর জন্য ওরা সন্ধ্যায় বের হলো।সাবিহার মন খুব খারাপ ছিল,না পারছিল হাসতে না কাদঁতে।মেহবুব সবার সাথে হাসি মুখেই কথা বলে বিদায় জানাল। বাসে উঠে সাবিহার কান্না পাচ্ছিল খুব,ও
অন্য দিকে ফিরে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। মেহবুবকে বুঝাতে চাচ্ছিল না ওর কান্না না জানি এ নিয়ে কি মশকরা করে।
এই লোকটা ওর পিছনে পাগলের মতো ছুটছে,বারবার দেখা করছে।,হসপিটালে, কলেজে আসছে বারবার।প্রতিদিন অফিস শেষে, আবার ছুটির দিনেও ওর ফ্লাটে যেত মেহবুব।ও তো ওকে দেখেই বিরক্ত হতো কেবল।আসলে কি জানার চেষ্টা করছে কেন লোকটা এমন করে??উলটো ও অভিনয় করে বুঝতো, ডির্ভোসের কালি ঢাকতে। সেদিন সেপারেশন লেটারটাই ওর মাথা খারাপ করে দিছে।ও চিন্তা করে নি যে ওটা মেহবুব ওদের বিয়ের পর খারাপ সম্পর্কের সময়ে উকিলের কাছে গিয়েছিল।ও তো তখনই লেটারটা পেত শুধূ পায় নি ওর অসুস্থতার জন্য।মেহবুব ওটা ক্যানসেল করারও সময় বা সুযোগ পায় নি।তার আগেই ওটা চলে আসে সাবিহার হাতে আর তখনই মেহবুব সম্পর্কে ওর নেগেটিভ ধারনা বেড়ে যায়। এরপরে মেহবুব রুম হতে বের হয়ে যায়।বিকেলে ওকে সাবিহা চা দিতে যায়,দেখে বরাবরের মতো তিতুনরা ওকে জেকে ধরেছে।ভাবছিল হয়ত ওর মেজাজ খারাপ করার জন্য ভেঙিয়ে কিছু বলবে মেহবুব। ও ও প্রস্তুতি নিয়েছিল কথার জবাব দেয়ার।নাহ্ উলটো ওর হাতে চা দেখে মেহবুব অবাক হয়ে চায়ের কাপ নিল, কিছু বললো না, চাও খেল না। টেবিলের উপর রেখে দিল। বাসস্ট্যান্ডে পৌছানোর জন্য ওরা সন্ধ্যায় বের হলো।সাবিহার মন খুব খারাপ ছিল,না পারছিল হাসতে না কাদঁতে।মেহবুব সবার সাথে হাসি মুখেই কথা বলে বিদায় জানাল। বাসে উঠে সাবিহার কান্না পাচ্ছিল খুব,ও
অন্য দিকে ফিরে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। মেহবুবকে বুঝাতে চাচ্ছিল না ওর কান্না না জানি এ নিয়ে কি মশকরা করে।
বাংলা ভালোবাসার গল্প ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প
-কাঁদছো কেন? তুমি কি ছোট তিতলি? ও হ্যা তুমি তো আবার পিচ্চি মানুষ।তা কাদঁ মন ভরে কাঁদ।
-আমি মোটেই কাদঁছি না।
-আচ্ছা বেশ তো। এই বলে মেহবুব আর কোন কথাই বললো না।সাবিহা ভাবছিল সারাটা পথ ওকে পেয়ে মেহবুব জালাতন করবে কিন্তু না সে কোন কথাই বলছে না উলটো নিজের ট্যাব খুলে অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরল।সাবিহা কিছুক্ষন বাইরে তাকিয়ে ছিল আনমনা হয়ে পরে একসময় ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুম ভাঙলো খুব ভোরে মেহবুবের ডাকে,
-উঠ আমরা এসে পরছি।তুমি ধীরে ধীরে নাম। বলেই ও বাস থেকে নেমে গেল। সাবিহা নিজের চুল ঠিকঠাক করলো, কাপড় ঠিক করে নামলো বাস থেকে। নেমে দেখে মেহবুবের গাড়ি আসছে, ও গাড়ির ড্রাইভারের সাথে কথা বলছে।ওকে আসতে দেখে ওর দিকে তাকালো। হাসলো তারপরে গাড়ির দরজা নিজেই খুলে দিল।অবাক হলো যখন মেহবুব ড্রাইভারকে পাঠিয়ে নিজেই গাড়ি চালানো শুরু করলো। গাড়িতে উঠার পর ওকে মেহবুব জিজ্ঞাস করলো,
-আমি তোমাকে অনেক বিরক্ত করছি না সাবিহা?আমি বুঝতে পারছি যে জিদ করে কাউকেই আটকে রাখা যায় না, এতদিন এই জিদটাই আমার ছিল।কিন্তু বিলিভ মি তোমাকে আমি অনেক ভালবেসে ফেলেছি।তাই ভাবলাম যে তুমি আমার কাছে থেকে খাচাঁর বদ্ধ পাখির মতো থাকবা।এতে আমরা কেউই খুশি থাকতে পারব না বরং তোমাকে তোমার মতে করে বাচঁতে দেই।তোমার জীবনটা তো আমিই নষ্ট করলাম এখন এর প্রায়চিত্ত করতে চাই তাই তো কালকের তোমার ওই কথা গুলো বলার পরেও জোর করে নিয়ে আসছি ঢাকায়।
-আমি আসতে চাই নি।
-হ্যা জানি তারপরও কেন আনলাম জানো? এখামে তুমি পড়াশুনা করেছো,এখানের হসপিটালে জব কর, তোমার ভাল ভালকলিগরা বা বন্ধুরা সবাই এখানে।তোমার টিচার হওয়ার ইচ্ছা তো আমি
জানি,,,,,.
মেহবুব গাড়ির লুকিং গ্লাস দিয় সাবিহাকে দেখছিল যতক্ষন পারছিল।এক সময় মোড় ঘুরতেই সাবিহা আয়না থেকে হারিয়ে গেল।দেখতে দেখতে হঠাৎ খেয়াল করল ওর চোখের কোনা ভিজে উঠেছে,চোখটা ঝাপসা হয়ে আছে। চশমাটা খুলে চোখটা মুছল,ওর ইচ্ছা করছিল চিৎকার করে কাঁদতে। মেয়েরা কত সহজেই কাঁদতে পারে,নিজের বুকের মধ্যকার কষ্টগুলো কান্নার মাধ্যমেই বের করে দিতে পারে আর ছেলেরা শত ব্যাথা সত্ত্বেও তা পারে না।ব্যাথাগুলো দলাপাকিয়ে বুকের মধ্যেই থেকে যায়,সময়ের সাথে সাথে তা আরও বাড়ে।মেহবুবেরও এখন সেই অবস্থা। বাসায় বোনকে কথা দিয়ে আসছে যে ভাবিকে নিয়ে আসবে এখন গিয়ে কি বলবে?? মা বাবা সাবিহাকে কত ভালবাসে, ওর জন্য তারা মেহবুবের সাথেও কথা বলে না ঠিক করে।তাছারা ও তো সাবিহাকে আস্তে আস্তে ভালবেসেছিল।ওর কথাবলা,হাসা, খুনসুটি সব কিছু।,রিতার দেওয়া কষ্টগুলো ভুলতে চেয়েছিল।কখনই সাবিহাকে তা বলে উঠতে পারে নি কারন ও ভয় পেত যদি সাবিহা ওর প্রতি ক্ষোভের বশত ফিরিয়ে দেয় তখন ও বাঁচতেই পারবে না।আর যখন বলে উঠল তখন সব শেষ!!!! মেহবুব অফিসে গেল সোজা, বাসায় ফিরলো না।চাইল যে অফিসের কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে কিছুটা মন খারাপ কমবে আর কাজ হতে ফেরার পথে ওর ল’য়ারের সাথে দেখা করবে। কিসের কি কাজেই মন ফিরাতে পারছিল না। সারারাতের এত লম্বা জার্নি তারপরও ইচ্ছা করে অফিসে থাকল,বারবার মোবাইল বের করে ওদের একএে ঘুরার সময়ের সেলফি গুলো দেখছিল।
-আমার লজ্জা লাগে আপনার সাথে ছবি তুলতে।
-কেন?দেখছো সবাই কত সুন্দর করে ছবি তুলে আর তুমি একজন নাক কুচঁকানো বুড়ি,শুধু নাক কুঁচকাও।
-আমি মোটেই বুড়ি না,আপনি নিজে বুড়ো।
-ওই তো তুমি আমার পুচঁকি বউ খালি ঢং কর। সাবিহাকে ও কত মজা করে বিভিন্ন ভাবে ভেঙাত আর ও ঠোট ফুলাত বারবার।আচ্ছা সাবিহা কি এসব স্মৃতি ভুলে গেছে? হয়ত ও খারাপ ছিল কিন্তু ওদের এসব স্মৃতি গুলো তো মেহবুব কোন ভনিতা করে নি বা ওকে কষ্ট দেয় নি তাহলে সাবিহা কি পারবে সব ভুলে যেতে?ভাবল হয়ত সাবিহা পারবে কারন ও তো ওকে ভালবাসেনি উলটো সবসময় ওর বউ হিসেবে ওর অবহেলাই পেয়েছে,বিভিন্ন দিক দিয়ে চোখের পানি ছাড়া তো মেহবুব ওকে কিছুই দেয় নি। নাহ্ এদিকে সাবিহা ঠিকই ভুলতে পারছিল না ওকে।এতদিনের একটা সম্পর্ক যার মধ্যে হাসি কান্না সব পেয়েছে শুধু বাকি ছিল ভালবাসা শব্দটার।তাও পেয়েছে,এই একটা শব্দ ছিল ওর কাছে সবচেয়ে দামি যখন বুঝতে পেরেছে জীবনে পরিবারের মানুষ ছাড়াও অন্য আরও একজন মানুষের ভালবাসা দামী। যে হবে ওর জীবন সগুী।এই প্রকাশ করার মুহূর্তের জন্য ও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে অনেকদিন।কিন্তু আজ যে ভাবে এই মুহূর্তটা আসল নিজেই ভাবতে পারে নি যে মেহবুবের মনে এটা জন্ম নিয়েছে ওরই অজান্তে, যেখানে ও মেহবুব সম্পর্কে শুধু খারাপ ধারনাই রেখেছিল।মেহবুবের প্রতিটা সঙ ওর অসহ্য লাগত, বাধ্য হয়ে চলত এমনকি খুলনায় ওকে দেখেও কি খারাপ আচারন করত,ওকি একবারও ভেবেছিল মেহবুবের মনে এসব ছিল।ওকে কখনই কিছুই বুঝতে দেয় নি ও।ওর সাথে কাটানো খারাপ সময়গুলোর স্মৃতিও আজ মনে পরলো। ওদিকে মেহবুব বিকেলে কোনমতে কাজ শেষ করে উকিলের কাছে গেল তাকে বললো যত তারাতারি সম্ভব ডির্ভোস পেপার তৈরি করতে।সব কাজ শেষ করে বাসায় যখন ফিরলো ও পুরো পুরি বিদ্ধস্ত।কোনমতে খেয়ে শুয়ে পরলো, বেডসাইট টেবিলে ওদের ওয়েডিং ছবিটা দেখল। মনে পরল যখন সাবিহার সাথে রাতে ফোনে কথা বলত তখন বার বার ছবিটার দিকে তাকাত, উঠে গিয়ে ছবিটা আলমারিতে রেখে দিল নইলে ও রাতে ঘুমুতেই পারবে না কিন্তু তাতেও রেহাই নেই সোফাটার দিকে তাকিয়ে থাকল শেষমেষ নিজে উঠে সোফায় শুলো।কুশনে মাথা এলিয়ে দিয়ে ভাবতে লাগল ও আসলে সাবিহার সাথে কতটা খারাপ করছে,একটা মেয়ে কত সপ্ন নিয়ে আসছিল আর সেখানে ও দিনের পর দিন মেয়েটাকে বিছানার বদলে সোফায় থাকতে দিত আর নিজে বিছানায় মাতালের মতো শুয়ে থাকত।হঠাৎ টের পেল ওর গা গরম হয়ে যাচ্ছে, মনে হয় জর আসবে।গরমে কয়েকদিন দৌড়াদৌড়ির ফল!! পরদিন সকালে মেহবুবের ঘুম ভাঙল মায়ের হাতের ছোয়ায়। -কি রে তোর এত জর আর এখনও ঘুমাচ্ছিস বাবা?তুই ছোট বাচ্চা?
-টের পাই নি মা।
-তা কেন টের পাবি?মা ছাড়া দেখভালের আর কে আছে? মেহবুব বুঝল মায়ের এ নাটক সাবিহা পর্যন্ত গিয়ে শেষ হবে,হলোও তাই। অনেক কথা বলার পর সে সাবিহার কথা উঠাল,
-কত সখ করে বউ আনছিলাম সাবিহার
মতো মেয়ে আমার ছেলের সেই সুখ সইবে কেন!!?
-মা তুমি না আমাকে ঔষধ দেবার কথা বলছিলা? তো দাও।
-হ্যা পাঠিয়ে দিচ্ছি।তুই আগে ফ্রেশ হ তারপর কিছু খ আগে। ওর বোন ট্রেতে করে ওর জন্য খাবার আর ঔষধ নিয়ে আসলো। -কিরেতুই কিভাবে অসুস্থ হলি?ভাবি তোকে ধোলাই দিছে?
-আমি কি তোর মত শয়তান?
-তা আর বলতে? আচ্ছা ভাবিকে ফোন দে জিজ্ঞেস কর কি কি ঔষধ খাবি?
-পারবো না তোর ভাবি ভাল ডা. না।সে আমার ট্রিটমেন্ট ভাল করে করে না আর তুই যা তো ভাগ এখান হতে।
-তুই না বলেছিলি ভাবি আসবে তা কেন আসে নি?
-ওর কাজ আছে তাই ব্যস্ত।সে আসবে না।
-ধূর!! হাহ্ বুঝি না তোর মতিগতি বুঝলি?আমি মাকে বললাম। ওর বোন মুখ ঝামটা দিয়ে চলে গেল। যাক্ ওই বলুক গিয়ে মাকে,ওর ইচ্ছে নেই।আসলে কোথাও মনের মধ্যে ওর বলছিল যে সাবিহা আসবে। মেহবুব নাস্তা আর ঔষধ খেয়ে কোন মতে অফিসে গেল,দুপুর নাগাত জর আরও বাড়ল।বুঝলোনা হঠাৎ ওর শরীর এতটা কেন খারাপ হলো আগে তো হয় নি।সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে কত ট্রেনিং করেছে, ওর শরীর সবসময় ফিট থাকত আজ সামান্য একটু জরে এত কাহিল অবস্থা!! মা ফোন দিয়ে বাসায় যেতে বলল ও ওভাবল আসলে ওর রেস্ট দরকার। বাসায় যাবার পথে সাবিহার হসপিটাল সামনে পরল,ওর মনটা মোচর দিয়ে উঠল।আচ্ছা সাবিহা কি জয়েন করেছে?একটু দেখে যাবে?বা ওর বাসা তো হসপিটালের কাছেই গিয়ে দেখে আসবে ওর ‘ডাবিহা ম্যাম’ কি করছে?নাহ্ এখন সাবিহার সাথে দেখা করার মানে নেই,অনেক বিরক্ত করতো ওকে।তাছাড়া ওরা একজন আরেকজনকে দেখলে যদি দূর্বল হয়ে যায়!! সাবিহার হসপিটালের পাশেই ফুচকা ওয়ালাকে দেখে ওদের ফুচকা খাওয়ার দৃশ্য মনে পরল।একদিন ওরা খাচ্ছিল আর বরাবরের


