Type Here to Get Search Results !

রোমান্টিক বাংলা গল্পঃ পর্ব:০১ [বাসর রাত]

গল্পঃ

 বাসর রাত 

Part: 01 মেহবুব ও সারার বাসর রাত


আজ সারার বাসর রাত। ছোট বেলা থেকেই এ রাতের ব্যাপারে শুনতে শুনতে আর নিজের বন্ধু বান্ধব এর মুখে শুনতে শুনতে নিজেরই আজ কেমন ঘোর লাগছে, কেমন যেন কি হয় কি হয় অবস্থা। তাছাড়া আজ বিয়ের পর মিঃ মেহবুব ই ওর লাইফে প্রথম পুরুষ। ও হ্যা, মেহবুব ওর হাজবেন্ড এর নাম। মেডিকেল এর পড়ার দরুন কোন দিন প্রেম ভালবাসা নিয়ে ভাবার সময় হয় নি সারাক্ষণ শুধু পড়া আর পড়া। কিন্তু অন্য সবার মত প্রকাশ না করলেও ও ঠিকই এই দিনটির জন্য অনেক অপেক্ষা করছে।  মেহবুব পেশায় একজন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা। 

মা ববাবার ছোট ছেলে। সারারও ছোট। উনি সারার মেডিকেলের প্রফেসর এর ভাইয়ের ছেলে। সারার বাবা স্যারের মুখে ছেলের বায়োডাটা শুনে আর তাদের পরিবার পরিজনের সাথে দেখা করে খুব পছন্দ করেছেন। স্যার সারার ওর মেডিকেল লাইফ থেকেই খুবই স্নেহ করত তো সারারও স্যারের কথার অন্যথা না করেই ও বিয়ের মত দে আর যেহেতু ওর নিজস্ব কোন পছন্দও ছিল না তাই অমতের কারনও ছিল না। 

আর যতটুকু মেহবুবকে দেখেছে ওর ভালই মনে হয়েছে।বাসায় যে দিন দেখতে গিয়েছিল শুধু ওর শাশুড়ি আর বড় ননদ ই কথা বলছে। ওর দুলাভাই ওদের কথা বলতে বলেছিল কিন্তু সে রাজি হয় নি তো সারার মনে যে টুকু আশা ছিল তাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে ভাবল যাক বেটা বিয়ের পর তো কথা বলবিই আগেই না হয় একটু ভাব ধর। . বিছানায় বসে বসে আকাশ পাতাল ভাবছিল ও এরই মেধ্য ওর বড় জা আর ননদ ঢুকল মেহবুবকে নিয়ে। 

বেটা রুমে ঢুকেই ওয়াশরুমে চলে গেল আর ওর জা আর ননদ ওর সাথে গল্প করা শুরু করল। -কি ভাবি কেমন লাগছে? দেখ আমি কিন্তু তোমার থেকে ছোট তো তুমি করেই বলব। – তোমার যা ইচ্ছে ডাকতে পার কোন সমস্যা নেই। -ভাবি আমার ভাই কিন্ত বিশিষ্ট ভাবিস্ট সে কিন্তু ভাব ধরবে তুমি তার ভাবের কোন পাত্তা দিবা না। 

সারার মনে মনে ভাবল যাহ বাবা ও মেহবুব সম্পর্কে যা ভাবছিল তাই ই যাই হোক একটু পর তার প্রমাণ পাওয়া যাবে যে সে কতটুকু ভাব নেয়। -ওই বেটা মেহবুব আমাকে ওনেক জালাতন করছে ছোটবেলা থেকে। এর শোধ কিন্তু আমি তোমার উপর থেকে নিব। বড় ভাবি হাসতে হাসতে বলল – আচ্ছা তুই থাম এবার। বেচারিকে একটু রিলাক্স হতে দে। 

আচ্ছা সারার আমরা গেলাম তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও আর হ্যা সকালে কিন্তু সব গল্প বলতে হবে। একথা শুনে সাবিহা হাসবে না কাঁদবে কিছুই বুঝতে পারছিল না। তারা চলে যাবার পর একা একা খাটে বসে আছে। ডাক্তারি লাইফে অনেক ক্রিটিকাল সমস্যা ফেস করছে কিন্তু এমন দিশেহারা হয় নি কিন্তু আজ কেমন জানি ফিলিংস হচ্ছে। আরও একা, মা বাবাকে ছেড়ে আসার কষ্ট তো আছেই। মনে হল যেন দুনিয়া হঠাৎ পালটে গেছে, সব থমকে গেছে। 

বাসর রাতের গল্প


গত কয়েক দিনের কর্ম ব্যস্ততা পুরো শরীরে ভর করছে, একটু শুতে পারলে বাচেঁ কিন্তু ওই লোক এসে দেখে ও ঘুম তাহলে কেমন লাগবে এই ভাবতে ছিল ওমনি সে ওয়াশরুম হতে ফিরে এল। ওর মুখে ঘোমটা দেয়া তাই লোকটাকে পুরোপুরি দেখাও যাচ্ছিল না। পরে কিছু একটা আলমারি থেকে খুলে নিয়ে বারান্দায় গেল। প্রায় আধা ঘণ্টা পর একসময় এসে বসল বিছানায়, একটু কেশে নিয়ে মাতালে স্বরে বলল অনেক রাত হল তুমি সোফায় গিয়ে শোও অথবা কোন সমস্যা না থাকলে বিছানায় ও শুতে পার। 

সারা কথাটা শুনে যত না অবাক তার থেকে বেশি হল তার গায়ের গন্ধ পেয়ে। মদের গন্ন্ধ!!!! সারার বলল – আপনি ড্রিংকস করেছেন???? অমনি মেহবুব রেগে গিয়ে বলল – খবরদার বিয়ে করেছি বলে আমার উপর কখনই অধিকার প্রয়োগ করবা না। সোফায় গিয়ে শুতে বলেছি গিয়ে শোও। . কথাটা শুনার পর ওর মনে হল ওর দুনিয়াটা পুরো অন্ধকার হয়ে গেছে। 

ভয়ে না লজ্জায় কাঁপতে কাঁপতে ও সোফায় কোন মতে গিয়ে শোয়। শুধু ভাবছে -এ কি হল???? আল্লাহ কেন ওর সাথে এমন করল ও তো কাউকে ঠকায় নি তাহলে!!!! সে দিনের রাত ওর কেমন কাটল তা ওই আর ঐ সোফার বালিশটাই জানল।ওর জীবনের সব থেকে অভিশপ্ত রাত।

সারা একসময় হাত দিয়ে দেখল ওর চোখের পানিতে সোফার কুশন ভিজে গেছে, ওপাশ ভয়ে ভয়ে ফিরে দেখল মেহবুব খাটে উলটো হয়ে ঘুমিয়ে আছে পুরো বিছানা জুড়ে।
লোকটার উপর ওর রাগ ক্রমশ বাড়ছে তারথেকে রাগ হচ্ছে ওর স্যারের উপর। সে জেনেশুনে কিভাবে ওকে ওর হাতে
তুলে দিল। এখন ওর কি হবে, মা বাবাকে কি বলবে? তাদের কত স্বপ্ন ওকে নিয়ে, ওর নিজের কত স্বপ্ন ওর ছোট একটা সংসার হবে, বাচ্চাকাচ্চা হবে, সারাদিন কাজ সেরে রাতে স্বামীর বুকে মাথা এলিয়ে ঘুমাবে, হসপিটালের গল্প বলবে, কোন রূগী কি বলছে তা বলবে, তার উপর ডাক্তারি করবে আরও কত কি,ওর সব ভালবাসা, ওর দেহ মন সব রেখে ছিল ওর স্বামীর জন্য কিন্তু আজ একটা রাতের মধ্যে কি থেকে কি হল!!!!

এসব ভাবতে ভাবতে ও কখন ঘুমিয়ে পরছিল নিজেই জানে না। . সকালে ঘুম ভাঙল একটা গম্ভীর আওয়াজে, চোখ খুলে দেখল মেহবুব তাকিয়ে আছে আর ওকে ডাকছে। ও ধরফর করে উঠে বসতেই আহ্ করে উঠল, সোফায় ঘুমানোর জন্য পুরো শরীর ব্যাথা হয়ে আছে। মেহবুব দেখেও না দেখার ভান
করে আরেকদিকে ফিরে বলল -নাস্তার টেবিলে যাও, সবাই
অপেক্ষা করছে। এই হুকুম শুনে রাগে ওর পুরো শরীরে
আগুন লেগে গেল কিছু বলতে যাবে তখনি ওর জা এল। . 

-সারা
এখনও উঠো নি?? একি তুমি সোফায়? তখন ভাবি আর কিছু বলল না মনে হয় কিছু একটা আঁচ করেছে, বলল -ফ্রেশ হয়ে খেতে আস, তারপর তোমার হাতে আজ রান্না করাব দেখব আমার ডা.দেবরানী কি কি রান্না করে খাওয়ায়। . ওদিকে মেহবুবের মন খুবই খারাপ। কি হতে কি হচ্ছে আসলে ও তো এমনটা চায় নি। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতেছিল। চাচার আবদারেই এই মেয়েটাকে বিয়ে করেছে নইলে ও কখনই চায় নি রিতার পর ওর লাইফে কেউ আসুক, ও ওর ভালবাসা নিয়েই একা একা থাকতে চেয়েছিল

থাকনা রিতা আজ অন্য জায়গায় সুখি, একটা অভিমান নিয়েই ও বাচঁতে চাইছিল। দীর্ঘ ৪/৫টা বছর ও এমন ভাবে আছে। ও তো লাইফটা কবেই শেষ করত যদি না ওর মা বাবা বেঁচে না থাকত। দিনের পর দিন ও ভিতরে আর বাহিরে কঠিন থেকে কঠিন হইছে এখন আর কোন মেয়ে জাতিয় অনূভুতি ওকে স্পর্শ করে না হয়ত এটা সহজে পারছে ওর প্রফেশন এর জন্যই, যেখানে সব কিছু সিরিয়াস। আর ও চাইতই রিতাকে ভুলতে দিন রাত ব্যস্ত থাকতে আর যে জবে আছে এতে চাইলেই যে কেউ দিন রাত কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে পারে তো তেমন কষ্ট হত না কিন্তু রাতটা ছিল অসহ্য ওর জন্য। 

বাংলা ভালোবাসার গল্প ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প


অনেক বিয়েই ও ইচ্ছে করে ভাঙছে কিন্তু এটা আর পারে নি চাচার জন্য আর মাও দিন দিন দূর্বল হয়ে যাচ্ছে শুধুমাএ পরিবার এর দিকে তাকিয়ে রাজি হয়েছে। তারপরও
আশা ছিল মেয়েটার পরিবার রাজি হবে না কারন ওর বয়স টা ৩৫পার হয়ে গিয়েছে, পরিবার চাইলেও এ যুগের মেয়েরা এত বয়সী স্বামী চায় না আরও সে একজন ডা., শিক্ষিত রিজেক্ট করাটা স্বাভাবিক ছিল কিন্তু না মেয়ে রাজি হয়েছে। 

আর ও জানে এর পিছনে ওর চাচারই হাত আছে। পরে ও চাইছিল মেয়েটার সাথে কথা বলতে কিন্তু ওর চাচা দেয় নি কারন চাচা জানত ও কথা বলতেই চায় বিয়ে ভাঙার জন্য। রাগ গিয়ে পড়ল সব মেয়েটার উপর। যখন ও কাবিন নামায় সই করছিল তখন মনে মনে বলছিল -মেয়ে রাজি তো
হয়েছ সবার কথা মত, এবার এই মেজরের পুড়ে যাওয়া লাইফে ঝলসানোর জন্য রেডি হও, ওয়েলকাম টু দ্যা হেল।

সাবিহা বাথরুমে গিয়ে অনেক কাঁদল,আয়নায় তাকিয়ে
দেখল চোখ নাক মুখ ফুলে গেছে, চোখের নিচে কালি জমেছে।খুব খুধাও লাগছে। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে দেখল মেহবুব বিছানায় বসা, ওর দিকে তাকালোও না। ও আয়নার সামনে গিয়ে মাথা আচঁড়াতে ছিল তখনি লোকটার ফোন আসল, রুম দিয়ে বের হয়ে গেল যাওয়ার আগে দরজাটা জোরে শব্দ করে আটকিয়ে গেল যেন খুবই বিরক্ত। ডাইনিং রুমে যাবার পর সবাই ঘিরে ধরল, কত খাবার কিছুই খেতে ইচ্ছে করছিল না আড় চোখে তাকিয়ে দেখল মেহবুব কার সাথে যেন সোফায় বসে কথা বলছে হঠাৎ চোখাচোখি হল। 

এমন অবস্থা হল যেন
খাবার গলায় আটকে যাবে। ওর শাশুড়ি বলল- মা
আস্তে খাও। আহারে একদিনেই কেমন চেহারা হলে গেল।মহিলার দিকে তাকাল সাবিহা, এত ভাল একজন মহিলার ছেলে এতটা বেয়াদব কিভাবে হয়??? . সারা দিন কয় একবার ফোনটা হাতে নিয়েও আব্বু আম্মুকে ফোন দেয় নি, দুপুরবেলা কথা হবার সময় বলল ও ভাল আছে তারা যেন টেনশন না করে এছাড়া আর কি বা বলবে!!!? যদি শুনে তাদের নুতন জামাই বিয়ের রাতেই মদ খেয়ে ওর সাথে এমন ব্যবহার করেছে তারা মরে যাবে ওর টেনশন এ। কিভাবে ও বাচঁবে তখন??জীবনটা তো শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে গেল।

এবাড়ির প্রতিটা মানুষ খুব ভাল বিশেষ করে ওর
শাশুড়ি, সব কিছু একটা দিনের মধ্যেই খুবই আপন ভাবে
সবার সম্পর্কে বলল,সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
তবে মানুষটা খুবই অসুস্থ কিন্তু তার কথা শুনবে কি সাবিহার
জীবনটা যে একটা অসুস্থ মানুষ শেষ করে দিল তার
কি হবে!!!?ওর খুবই খারাপ লাগছিল যে ও মহিলার সাথে ঠিকমত কথাও বলছে না দেখে। . দুপুরবেলা খাবারের পরে ও রুমে গেল দেখল লোকটা নেই তো ও পুরো রুম ঘুরে ফিরে দেখল। কিছু ছবি দেয়ালে টানানো। মেহবুবের ক্যাডেট কলেজের,কেমন যেন পার্সোনালিটি সম্পন্ন চেহারা লোকটার।আলমারি খুলল এরই মেধ্য মেহবুব রুমে আসল, বলল- আমার পার্সোনাল জিনিসে তুমি হাত দাও কেন? 

এগুলা মোটেই লাইক করি না আমি আর তুমি কে?? শুধু কাগজ কলমের বিয়ে আমাদের এছাড়া আর কিছুই না। সাবিহা এই প্রথম কথা বলল -আপনি আমার সাথে এভাবে বাজে বিহেব কেন করছেন? আমি আগে জানলে কোনদিন এই বিয়েতে রাজি হতাম না। আপনি কি আমাকে বলবেন কি সমস্যা? মেহবুব কিছু একটা বলতে যাবে ওমনি ওর বোন এসে চিৎকার করে বলল-ভাইয়া মায়ের কি যেন হইছে। তুই তাড়াতারি আয়। মেহবুব ওর দিকে একটা রাগী দৃস্টি দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল, সাবিহাও পিছন পিছন গেল। গিয়ে দেখে ওর মা বিছানায় শোয়া। সবাই জানে যে ও ডা. তাই ওকেই দেখতে বলল। ও প্রথম দেখাতেই বুঝল যে এটা হার্ট অ্যাটাক। বলল তাড়াতারি হসপিটালে নিতে।

পরবর্তী পার্ট পড়তে নিচে ক্লিক করুন




Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.