Type Here to Get Search Results !

রোমান্টিক বাংলা গল্পঃ পর্ব:০৬ [প্রিন্সিপাল ম্যাম]

গল্পঃ

প্রিন্সিপাল ম্যাম

Part: 06 শাহরিয়ার ও ইরা ম্যাডাম


- ম্যাম এর দিকে তাঁকিয়ে তো একদম ফ্রিজ হয়ে গেছি, আমি সিওর ইরা ম্যাম আর পরীদের মধ্যে কোন না কোন তো কানেকশন আছেই। তা না হলে একটা মানুষ কেমন এত সুন্দর হয়, একবার তাঁকাইলেই সব অঙ্গ যেন এক্কেবারে অফ হয়ে যায়। এমনি তো চোখ সরেনা, তাঁর উপর আবার নীল শাড়ী পড়ছে।  এমনটা যদি চলতে থাকে, কোনদিন দেখা যাবে, আমি তাঁর দিকে তাঁকিয়ে সত্যি সত্যি ফ্রিজ হয়ে গেছি। হায়  হায় ম্যাম এমন জুম হচ্ছে কেন।

- ঐ... এমন হা করে আছো কেনো, এলাকার সব মশা মাছি তো তাঁদের রুম ভেঁবে তোমার মুখের মধ্যে ঢুকে যাবে।

- শুধু মশা মাছি কেনো তোমার জন্য তো আমি ইট পাথর ও খেঁয়ে ফেলতে পারি....।

- কীইইইই........।

- এই না না... এমনি আবেগে বলে ফেলছি।

- ঠিকআছে যাও এখন রিক্সা নিয়ে আসো। কী হলো চারিদিকে ঘুরে ঘুরে এমন কী দেখছো। 

- সব ঠিকি আছে বাট ডানা দুইটা মনে হয় উঠে নাই।

- কী বলো এই সব।

- না মানে, তুমি যে একটা পরী সেটা  আমি সিওর...শুধু ডানা দুইটা নাই এই মাত্র। আচ্ছা তুমিই বলো সব তো দিছে ডানা দুইটা দিলে কী এমন ক্ষতি হইতো। ডানা থকলে আজকে এমন কষ্ট করে রিক্সা খুঁজতে হইতো। সবই কপাল......।

- তোমার কপালের আবার কী হইলো শুনি।

- তেমন কিছু না, রিক্সা খোঁজা কপাল  আমার....আচ্ছা এখানেই থাকো এক পা ও নড়বা না কিন্তুু। ওহহহহহ হ্যা এক মিনিট... থু থু থু....।

- ঐইইইইইই...কী করলা এইটা।

- তেমন কিছুই না একটু থুতু ছুঁটিয়ে দিলাম। এখনকার পোলা পান আর জ্বীন ভূতের কোনই বিশ্বাস নাই।

- হয়েছে এবার যাও রিক্সা নিয়ে আসো।

- হুমমমমম। এই যে ম্যাম রিক্সা নিয়ে আমি কামিং এবার আপনি রিক্সাই আপইং হন।

- এই সব আজাইরা, ফালতু ভুলভাল  ইংলিশ কোথায় শিখছো শুনি।

- কেনো... আমার মতো করে তো সব ঠিকই আছে।

- সেটাই তো প্রবলেম, তোমার মতো করে ঠিকআছে।

- আচ্ছা যাই হোক, আমি একটা কথা বলিতে চাই।

- ঠিকআছে, বলিয়া ফেলো।

- আপনি আমাকে তুমি করে বলতে বলছেন, বাট ইরা বললে কেমন করে তাঁকান। এখন আমি কেমনে তুমি বলমু।

- কেনো।

- কেনো মানে... আমি কী এমনে বলমু যে, ম্যাম তুমি কেমন আছো। ম্যাম এর জায়গায় যদি ইরা বলতাম কত সুন্দর লাগতো।

- ঠিকআছে... বাট, তোমার তো আমাকে নাম ধরে ডাকার দরকার নাই।

- নাম ধরে না ডাকলে তো, আমি তুমি ডাকতে পারি না।

- আচ্ছা তোমার মতলব কী শুনি।

- কোন মতলব নাই, ঐ দিন স্বপ্নে কত সুন্দর নাম ধরে ডাকছিলাম আহা।

- কীসের স্বপ্ন শুনি।

- না কিছু না। ওহহহহহহহহহ....হ্যা আর একটা কথা।

- কী কথা শুনি। 

- আচ্ছা তুমি মায়ের পেঁট থেকে ফার্স্ট কোথায় ল্যান্ড  করেছিলে।

- কেনো।

- না বলো শুনবো।

- নানুর বাসাতে।

- ঠিক জানতাম, যত সব ঝামেলা ঐ নানুর বাসাতেই হয়।

- কী বলছো এই সব আবলতাবল।

- আমি বলছি এই যে তুমি তো আমাদের গ্রহের না, যে ল্যান্ড করেছিলো তাঁকে তো পরীরা নিয়ে গেছে, আর তুমি তো একটা পরীর বাচ্চা, তাই তোমাকে এখানে রেখে গেছে। তবে সেটার জন্য অবস্য আমারই বেশি লাভ হইছে... হি হি হি।

- খালি বেশি কথা বলা, আর একটা যদি কথা বলো তাইলে ধাক্কা রিক্সা থেকে ফেলে দিবো হুমমমমম।

- ঠিকআছে... আর কথা কমু না.... তবে হ্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।

- কীইইইই?

- এখন না পরে বলবো।

- তহলে এখন চুপ করে থাকো।

- হুমমমমম।রিক্সা চলছে তো চলছেই। 

- আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি।

- চুপচাপ থাকো গেলেই দেখতে পাবা।

- আমি এমনে চুপচাপ থাকতে পারি না তো,  জায়গায় নাম বলো না, তা না হলে আমি স্থির হয়ে থাকতে পারমু না ।

- আর শুনে কাজ নেই চলেই আসছি।

- এই যে মামা থামেন এখনে।

- ঐ হঠাৎ এয়ারপোর্ট আসলে কেনো, আবার কী আমেরিকা চলে যাবা।

- ওহহহহহহহহ.... চুপ করো, তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে।

- আচ্ছা কী এমন সারপ্রাইজ যে ফ্লাইটে করে আসতেছে।

- একটু চুপচাপ দাঁড়াও আসলেই দেখতে পাবা।

- আচ্ছা.... কী সারপ্রাইজ ওয়ালা কপাল সেটা ভালো করে জানি আমি।

- ঐ তো চলে আসছে.... আবীরররররর বলে গিয়ে একটা ছেলেকে জরিয়ে ধরলো। কোন লজ্জা সরম নাই। আর হালার পোলাডা কেমন সে ও জরাই ধরে আছে, আর এই দিকে আমার ভালোবাসার অবোলা মনটা ফুটুস করে ফেঁটে গেলো। এবার আমার কাছে আসলে।

- সাহরিয়া....এ হচ্ছে আবীর, আর আবীর ও সাহরিয়া।

- ওহহহহহহহহহ.... আচ্ছা, তাহলে এটাই সেই সাহরিয়া, যার কথা এমন দিনে রাতে বলতে।

- হ্যালো... সাহরিয়া।

- আস্ সালাম ওয়ালাইকুম।

- 😕😕😕😕😕😕😕

- আর সাহরিয়া এই হলো তোমার সারপ্রাইজ, এটার মধ্যে তোমার ফেভারিট সব চকলেট আর সন্দেস আছে। আর হ্যা সামনের সপ্তাহে আমার আর, আবীর এর বিয়ে, তুমি কিন্তুু কালকে থেকে আমাদের সাথেই থাকবে।

- কষ্ট পাওয়া থেকে মেজাজটা এবার আরো বেশি খারাপ হচ্ছে, কারণ বিয়ে করবে ওরা আর সাথে থাকমু কী না আমি।

- ঐ কী জানি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবা বলছিলে।

- ভুইলা গেছি। তোমরা তাহলে যাও আমার একটু ঐ দিকে কাজ আছে।

- ঠিকআছে।

ভালোবাসার গল্প


- প্যাকেটটা হাতে নিয়ে রাস্তাই হাঁটছি... এই হলো আমার সারপ্রাইজ,হা হা হা। হাঁসবো নাকি কাঁদবো বুঝতেছি না। আর এখানে কারোর কোন দোষ নাই, দোষ তো সব আমার।

লাফাই লাফাই পরী পরী বলে ম্যাম এর পিছনে ঘুরা। ওহহহহহহহহহহ আমার কপাল ভালো তাই মনের কথাটা বলি না। যদি বলতাম কী সরমটাই না লাগতো। আর ফ্রিতে ভালোই বকা খাইতাম, কপালে থাকলে থাপড়ানি ও দিতো। বাসাই যেতেই.....।

- কীরে হাতে ঐটা কী?(ম)। 

- সারপ্রাইজ।

- কে দিছে।

- ইরা ম্যাম এর বিয়ে তাই আমারে দিছে। আর কিছু না বলে.... রুমে গিয়ে ধপ করে শুয়ে পড়লাম। ভাবতে পারতেছিনা এতদিন যারে নিয়ে এত কিছু ভাবলাম সেই কী না আর  আমার হবে না, অন্য কারো হবে। আসলে সব কিছুই কপাল।


তবে আমি অন্য পোলাগো মতো না, যে ছ্যাঁকা খাইছি খাইছি বলে হাতে সিগরেট তুলে নিমু, হাত কাঁটমু, বিছানাই শুয়ে শুয়ে মাইয়া গো মতো কানমু। সারাদিন খালি তাঁর কথাই চিন্তাই করমু। তবে আমি তো তাঁদের থেকে ও

বড় ছ্যাঁকা খোঁর, আমার তো মনে হইতেছে, চিল্লাই চিল্লাই কাঁদি, একবারে ১০০ ২০০ টা সিগরেট খাই, খালি হাত ক্যান পা ও কাঁইটা ফেলাই, তবে এর কিছু করার সাহস আমার ভিতরে আল্লাহ্ পাক পয়দা করে দেই নাই।

ছ্যাঁকা খাওয়ার পরে নাকি খাওয়া   রুচি থাকে না, তবে আমার তো সব সময় খিদে লাগতেছে, মনে হচ্ছে সারাদিন খাই। সবাই নাকি ঘুমাতে পারে না, আর আমি তো শুইলেই মরা। এমন করি দুইদিন গেলো।

 হঠাৎ ইরার ফোন।

- সাহরিয়া কই তুমি।

- খাইতেছি।

- আজকেই আমাদের বাসাই আসবা আর খাওয়া শেষ করেই।

- আমি যাইতে পারমু নারে ভাই,  আমার মেলা কাজ আছে। বলেই ফোনটা কেঁটে দিয়ে সিম খুলে রাখলাম, যার জন্য সিম কেনা, সেই নাই সিম কী করমু।

এমন সময় আব্বর এন্ট্রি।

- কীরে তোর ম্যাম এর নাকি বিয়ে।

- তো....আমি কী করমু।

- ম্যাম কে গিয়ে একটু হেল্প কর। এমনি তো এতদিন সব সময় পিছন পিছন ঘুরলি।

- তোমার যখন এতই দরদ উতলাই পড়তেছে, তুমিই যাও না আমারে বলতেছো কেনো।

- না মানে... এতদিন তো সব সময় খালি ম্যাম ম্যাম করতি তাই। যখনি শুইতেছি তখনি মনে হচ্ছে আগে যদি জানতাম, যেমনেই হোক একটা পাপ্পি অন্তত দিতাম, তবু আজ একটু শান্তি লাগতো যে একটু পরীরে কিস দিছি।

এমন করে শুয়ে বসে খেয়ে গেমস্ খেলে সাতদিন গেলো, ম্যামের সাথে কোন যোগাযোগ নাই। বিয়ের দিন দুপুরে সেদিনের ঐ সারপ্রাইজটা নিয়ে, প্রথম যেদিন পড়তে গেছিলাম, ঐ জায়গায় গেলাম আর ব্রেঞ্চটাতে বসলাম।

ম্যামের যখন বিয়েই হচ্ছে সারপ্রাইজটা রেখে আর কী করমু সব গুলো খেয়ে ফেলি। আর কিছু না পাই এত গুলা চকলেট আর সন্দেস পাইছি তো, সন্ধা প্রায় হয়ে আসছে, আর অল্প কয়টা চকলেট বাঁকি। এমন সময় সামনে দেখি যে

বাংলা গল্পঃ


বিয়ের ড্রেস পড়া একটা মেয়ে, আমার দিকেই দৌঁড়ে আসছে। একটু কাছে আসতেই দেখি, ওমা এতো ইরা ম্যাম। মনে হয় শেষ বিদায় নিতে আসছে।

- ঐ হনুমান, তুমি এখানে বসে বসে চকলেট খাইতেছো, আর আমি তোমাকে সারা এলাকা খুঁজতেছি । 

- চকলেট খামু না তো কী করমু, তুমি যখন অন্য কারো হয়েই গেছো, সারপ্রাইজ এর জিনিস গুলো কী নষ্ট করমু... আর হ্যা এখানে কেনো আসছো শেষ বিদায় নেওয়ার জন্য।

- ঠাসসসসসসসসসসসসসসসসসসসস।

- মারলে কেনো।

- সেদিন হঠাৎ ফোন কাঁটছো কেনো, আর ফোন অফ কেনো, আর আমি কী তোমাই ভাই লাগি।

- ওহহহহহহহ.... এই সব বলার জন্য তাহলে আসছো, আসল কথা বুচ্ছি।

- ঠাসসসসসসসসসসসসসসসসসসসস।

- আবার.... এবার কিন্তুু বেশি বেশি থাপ্পর দেওয়া হচ্ছে হুমমমমমম।

- তোরে শুধু থাপ্পর না লাঠি দিয়ে মারতে হবে।

- কেনো... আমি কী করছি।

- আমাকে ভালোবাসো আগে বলোনি কেনো।

- ওহহহহহহহহ এখন না বলা ও দোষ।

- বলা দোষ না... ভালোবেসে না বলা দোষ।

- হুমমমমম... তুমি এখানে কেনো।

- একটা মেয়ে বিয়ের সাঁজে এমন দৌঁড়িয়ে কেন আসে হুমমমমমম।

- সেটা তো অন্য ক্ষেত্রে এখানে তো ছেলে ও তোমার পছন্দের।

- ছেলে পছন্দের হলে কী হবে, মনের মধ্যে তো তুমি আছো নাকি। বলেই এসে জরিয়ে ধরলো...

- সাহরিয়া আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, যখন কাছে ছিলে বুঝতে পারতাম না, তবে যখন আমার কাছে ছিলে না, মনটা শুধু তোমার কথাই ভাবতো , চোখ দুইটা শুধু তোমাকেই দেখতে

চাইতো, কান দুইটা শুধু তোমার বক বক শুনতে চাইতো, হাত দুইটা বলতো ইস একটু যদি তোমাকে স্পর্শ করতে পারতাম, তোমাকে ছাঁড়া সত্যি আমি থাকতে পারবো না, আর আমি জানি তোমার আমার থেকে বেশি কষ্ট হয়েছিলো বাট তুমি তো কষ্ট গুলো লুকিয়ে রাখতে পারো, আর আমি তো পারি না, আমি শুধু তোমাকেই চাইরে পাগল,

তাইতো বিয়ের আসর থেকে দৌঁড়ে তোমার কাছে চলে আসছি।

- আর একটু শক্ত করে জরাই ধরো।

- হুমমমমম।

- কী শান্তুি লাগতেছে। পুরাই সেই দিনের স্বপ্ন।

- কী সেদিন থেকে এমন স্বপ্ন স্বপ্ন বলতেছো।

- না মানে তোমাকে নিয়েই এমন একটা স্বপ্ন দেখছিলাম।

- তুমি যে একটা শয়তান।

- তবে স্বপ্নে একটা জিনিস বেশি ছিলো।

- কী?

- পাপ্পি দিবা।

- আচ্ছা। উমমমমমমমমমমমম্মা।

- ঐ এখন ও ম্যাম বলবো নাকি ইরা।

- যখন এমন জরিয়ে ধরে থাকবা তখন ইরা বলবা , আর এমনি টাইমে ম্যাম বলবা।

- নাাআআআআআ।

- হা হা হা।

- চকলেট খাবা।

- চকলেট... ঐ ব্রেঞ্চের উপর আছে।

- ঠিকআছে চলো।

- তোমার কোলে একটু মাথা রাখি।

- ঠিকআছে।

- আহহহহহ কী নরম, বালিশ ও হার মানবে।

- শয়তান।

- একটা চিমটি দিবা।

- কেনো।

- না মানে... পরে আবার দেখা যাবে যে এই সব ও স্বপ্নে দেখতেছি।

- ঠিকআছে... চিমটি দিলাম।

- আউউউউউউউউউ....এত জোরে, তবে আর যাই হোক স্বপ্ন না....।

- একটা জিনিস ভাবতেই সরম লাগতেছে।

- কী জিনিস।

- না মানে... এখন মন চাইলেই তোমাকে পাপ্পি দিতে পারবো প্লাস দুষ্টুমি ও করতে পারবো.... হি হি হি।


_____________________>>সমাপ্ত<<___________________



আরো কিছু গল্পঃ পড়তে নিচে ক্লিক করুন


Collected from Facebook 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.