গল্পঃ
প্রিন্সিপাল ম্যাম
Part: 04 শাহরিয়ার ও প্রিন্সিপাল ম্যাম
- মন পরে আছে ম্যাম এর কাছে, বাড়িতে কী আর মন বসে। চুপি চুপি বাসা থেকে বের হলাম, কারণ যদি মা এতবার দেখে যে আমার পায়ের এই অবস্থা পুরো বাড়ি মাথাই তুলে ফেলবে। আর ম্যামের কাছে যাওয়া ও বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ রুম থেকে তো বের হতেই দিবে না। বাসার কিছুটা দূরে গিয়ে একটা রিক্সা নিয়ে, ম্যামের বাসার সামনে গিয়ে বসে আছি। পায়ের ব্যাথার জন্য বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেছি না। তাই আর উঁকি ঝুঁকি ও মারতে পারতেছি না। ভয়ে ভয়ে ম্যাম কে ও ফোন দিচ্ছি না, যদি বকা দেই তাই।
কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ ম্যামের ফোন আসলো।
- হ্যালো... ম্যাম।
- সাহরিয়া.. তুমি কী কোনদিন কারো কথা শোন না।
- কেনো।
- এখন কোথাই আছো।
- এই তো রুমে শুয়ে আছি।
- তাহলে আমার বাসার সামনে তোমার মতো ওটা কে শুনি।
- আসলে মানে ইয়ে ম্যাম।
- থাক আর আসলে মানে ইয়ে বলতে হবে না.... তুমি ওখানেই থাকো আমি আসতেছি।
- হুমমমমম।
একটু পরে দেখলাম, ম্যাম একটা নীল ড্রেস পড়ে নিচে আসলো। এবার তো নীল পরীর মতো লাগতেছে।
- এই যে উঠো.... বাসাই চলো ।
- না... আমি তো এখানেই ঠিক আছি, বাসাই গেলে মা আবার শুধু শুধু বকা দিবে।
- ওহহহহহহহ....গাধা, তোমার বাসাই না আমাদের বাসাই চলো।
- আচ্ছা... আজকে ওই খানে যাবেন না।
- না.....আর, তোমার পায়ের অবস্থা ও ভালো না।
- আচ্ছা তাহলে বাড়িতেই ঠিক আছে।
- একাই হেঁটে হেঁটে যেতে পারবে নাকি হাত ধরে নিয়ে যেতে হবে।
- দূর.... আমার পা তো ঠিককক......., অনেকক্ষণ বসে থাকার ফলে দাঁড়াতেই পড়ে যেতে লাগছিলাম, আর তখনি ম্যাম আমার হাত ধরে ফেলে। আমি কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে গেছিলাম... এই প্রথম ম্যাম এর হাত আমাকে স্পর্শ করে, আর আমি তো সেটা দেখে হা হয়ে গেছিলাম।
- ঐ এমন হা করে থেকে কী দেখো... কেমন ভালো হয়েছে সেটা আমি ভালো করেই জানি। এবার আস্তে আস্তে চলো।
- হুমমমমম।
ম্যাম ওনার রুমে নিয়ে গেলো, আর মামের রুমটা অনেক সুন্দর। চারিদিকে অনেক পুতুল আর ওনার অনেক কিউটুস কিউটুস ছবি দিয়ে রুমটা সাজানো।
- সাহরিয়া... তুমি এখানে বসো, আমি আসতেছি।
- আচ্ছা।
একটু পরে......।
- বাতরুমে চলো ।
- কীইইইই.... কেনো।
- আরে পা ধুয়ে আসো... এই ঔষধটা লাগাতে হবে, তাহলে একটুর মধ্যেই ব্যাথা অনেকটা কমে যাবে।
- আচ্ছা, আমি গিয়ে পা ধুয়ে আসতেছি।
- একাই পারবা তো, আবার যে পড়ে যেও না।
- না পড়বো না... আমি ধুয়ে আসতেছি।
বাতরুমে গেলাম পা ধুয়ে আসলাম।
- ম্যাম.... হয়ে গেছে।
- এখন ম্যাম বলা লাগবে না বুঝলা.... ইরা বলবা আর তুমি বলবা।
- আচ্ছা ঠিকআছে।
- এবার এই টুল টার উপরে পা রাখো, আমি ঔষধ টা লাগিয়ে দিচ্ছি।
- আরে না আমি নিজেই লাগিয়ে নিতে পারবো তো।
- চুপ চাপ পা টুলটার উপরে রেখে বসে থাকো।
- ঠিকআছে.... ইরা নিজের হাতে আমার পায়ে ঔষধ লাগিয়ে দিচ্ছে, নিজের চোখকেই কেমন বিশ্বাস হচ্ছে না। ঔষধ লাগানোর পরে।
- সাহরিয়া... তুমি একটু বসো আমি হাতটা ধুয়ে আসতেছি।
- আচ্ছা।
আমি বসে আছি ইরা হাত ধুয়ে আসলো....
- দুপুরে টাবলেট খাইছো।
- না মানে মনেই ছিলো না।
- ঠিক জানতাম, তোমার মনেই থাকবে না।
- আমার কাছে আসো... আমি নুডুস রান্না করে... এই গুলো খেয়ে ঔষধ খেতে হবে বুঝলা।
- ইরার কান্ড দেখে তো আমি শুধু হা করে বসে আছি, মনে হচ্ছে ইরা আমার বিয়ে করা বউ।
- এমন হা করে থাকলে চলবে, আমি খাইয়ে দিচ্ছি এবার খাও কেমন।
- সে নিজের হাতে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর আমি তাঁর দিকে আপলোক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছি। যে সব কিছু সপ্নের মতো ঘটে যাচ্ছে।
খাওয়া শেষ।
- সাহরিয়া এবার হা করো ঔষধ টা খেয়ে নাও। নিজের হাতে ঔষধটা ও খাইয়ে দিলো। ব্যাথা কী একটু কমছে।
- হুমমমমমমম... অনেকটা কমে গেছে।
- আচ্ছা ছাঁদে যাবা।
- কিন্তুু পড়া।
- আজকে পড়তে হবে না, ছাঁদে চলো।
- ঠিকআছে।
- আমার হাতটা ধরো... তা না হলে আবার পরে যাবে।
- আরে না.. এই যে আমার পা ভালো হয়ে গেছে।
- এই বলছো ভালো হইছে, আবার এই ধপ করে পরে যাবে। হাত ধরো বলছি।
- ইরার হাতটা ধরে ছাঁদে যাচ্ছি, অনেক সুন্দর নরম হাত।
- আরে শক্ত করে ধরো না , পরে যাবে তো।
- আচ্ছা... আরো শক্ত করে তাঁর হাতটা জরিয়ে ধরে ছাঁদে উঠতেছি।
ছাঁদে উঠার পরে।
- চলো ওখানে গিয়ে বসি।
- হুমমমমম।
- আচ্ছা সাহরিয়া.. তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড আছে।
- উমমমমমম... না, তেমন কোন মেয়েকে ভালো লাগে না।
- বাহ্..ভালো।
- কাউকে কোনদিন কিস করছো।
- না....... (মনে মনে খুব ভয় পাইতেছি ম্যাম আবার খাতাটা দেখে ফেলে নি তো)
- আমার বিশ্বাস হয় না এই সব.. এত সুন্দর কিউট একটা ছেলেকে কেউ এখন ও কিস করেনি সেটা কী হতে পারে।
- সত্যি.... বলছি ম্যাম আমি কোনদিন কাউকে কিস করি নাই আর আমার কোন গার্লফ্রেন্ড ও নাই।
- ওহহহহহহহহহহ... তোমাকে বলছি না, যখন আমরা একলা থাকবো আমাকে ইরা বলবা।
- হুমমমমম... আচ্ছা।
- কোনদিন কোন মেয়েকে স্পর্শ করছো।
- না..... তবে আজকে আপনাকেই প্রথম বার স্পর্শ করছি।
- ওহহহহহহহহ.... আচ্ছা। কাউকে মনে মনে ভালোবাসো।
- না মানে ইয়ে।
- না মানে ইয়ে না....হ্যা অথবা না বলো।
- আসলে মানে একজনকে ভালোবাসি কী না সেটা বলতে পারবো না... তবে সব সময় তাঁর কাছে থাকতেই বেশি ভালো লাগে। মনে হয় সব সময় তাঁর স্পর্শের মধ্যে থাকি, সব সময় মন ভরে তাঁকে দেখি, তাঁর সব কিছুই আমার ভালো লাগে । তাঁকে ছাঁড়া অন্য কোথাও মন বসে না।
- বাহ্.... তাহলে কে সে শুনি।
- তুমি।
- কীইইইই?
- হুমমমমম.... ইরা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, আমি তোমাকে ছাঁড়া থাকতে পারি না, সব সময় শুধু তোমার কথাই আমার মনে পরে। আমি সারাটা জীবন তোমার স্পর্শের মধ্যে থাকতে চাই, পারবে কী আমাকে তোমার বুকে আগলে রাখতে।
- হুমমমমম.... পাগল।
ইরা একটু দূরে ছিলো.. সেখান থেকে উঠে এসে আমার গা ঘেঁসে বসলো আর আমার হাতটা ধরলো।
- সাহরিয়া... আমাকে ছেঁড়ে যাবে না তো।
- কোনদিন ও না।
- সব সময় এমন আমার কাছে কাছেই থাকবা তো।
- হুমমমমম... সব সময় থাকবো। আচ্ছা ইরা তোমার দাদু কই গেছে।
- দাদু তো আজকে বাড়িতে নেই, ঐ ডাক্তার আংকেলের বাড়িতে একটু গেছে...।
- ওহহহহহহহহহ।
হঠাৎ দেখলাম আমার খাতাটা নিয়ে আসলো। আর এটা দেখেই তো আমার বুকটা ধুক ধুক করতে লাগলো।
- এইটা কে শুনি।
- ইয়ে মানে তুমি।
- আর ছেলেটা কে।
- আমি।
- কী করছে দুইজন।
- জরিয়ে ধরে আছে।
- আর কী করছে শুনি।
- পাপ্পি.......।
- হা হা হা.... পাগল.... পাপ্পি চাও আমাকে একবার বললেই তো দিতাম। এখানে ভয়ে কী আছে।
- এবার আমার কেমন জানি ডাউট লাগছে এত তাঁড়াতাড়ি এত সব কিছু কেমনে কী?
- ঐ কী ভাবছো। আসো পাপ্পি দেই। বলেই আমাকে জরিয়ে ধরে পাপ্পি দিতে লাগলো।
- আমিও ইরাকে জরিয়ে ধরলাম, মনে হলো কোন এক সুখের সাগরে হারিয়ে যাচ্ছি।
এমন সময়।
- আচ্ছা ইরা আমি কী এই সব সত্যি সত্যি দেখতেছি।
- পাগল... তাহলে কী মিথ্যা দেখছো হুমমমমম।
চলো
নিচে চলো তোমার জন্য আরো সারপ্রাইজ আছে।
- কী সারপ্রাইজ।
- নিচে চলো তাহলেই দেখতে পাবে।
- আচ্ছা। পায়ের ব্যাথাটা এবার আরো কমে গেছে , স্বাভাবিক ভাবেই নিচে নামলাম,
- ইরা এবার আমার হাতটা ধরে আবার তাঁর ঘরে নিয়ে গেলো।
- সাহরিয়া যাও এবার আমার বেডে শুয়ে পড়ো।
- কেনো।
- যা বলছি তাই করো।
- আচ্ছা। দেখলাম ইরা এবার আস্তে আস্তে আমার পায়ের কাছে আসলো.... আর এসেই যেই পায়ে লাগা আছিলো সেই পা টা ধরে জোরে একটা মোচর দিলো.....।
- আহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহ।
- একদম চিল্লাবি না.... খুব সারপ্রাইজ নেওয়ার সখ তাই না। বলেই আবার একটা মোচর দিলো...
আর আমি তো আহহহহহহহহহহহহ, বলে জোরে একটা চিৎকার দিয়ে লাফ দিয়ে উঠলাম। এদিক ওদিক তাঁকিয়ে দেখি প্রায় সন্ধা হয়ে আসছে, আর আমি তো আমার রুমেই আছি... তার মানে এতক্ষণ যা কিছু দেখলাম সব সপ্ন। তবে একটা জিনিস বুঝতেছি না,এটা রোমান্টিক সপ্ন ছিলো নাকি ভয়ঙ্কর সপ্ন। পায়ের দিকে তাকালাম সব ঠিক ঠাক আছে, হালকা হালকা ব্যাথা কমছে। এর মধ্যেই মা ছুঁটে আসলো রুমে।
- কীরে কী হয়েছে তোর বলতো, দুপুরে এসে না খেয়েই শুয়ে পড়লি। অনেক ডেকে ও ঘুম থেকে তুলতে পারলাম না, এখন আবার ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠলি কেনো। কী হয়েছে সত্যি করে বলবি।
- দূর কিছু না মা....তুমি যাও।
- ঠিকআছে... আমি যাচ্ছি... তুই তাঁড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে বাহিয়ে আয়, তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে।
- আবার সারপ্রাইজ....আচ্ছা আগে শুনি তো সারপ্রাইজটা কী?
- তোর কলেজের পিন্সিপাল ম্যাম আসছে.... আমি তোকে ডাকতে চাইছিলাম তবে সে বারণ করে দেই, বলে ঘুমাচ্ছে যখন ঘুমাক।
- কীইইইই.... এখন ওনি কই।
- তোর বাবার সাথে বসে গল্প করছে, তবে আর যাই বল মেয়েটা কিন্তুু অনেক সুইট।
- দেখতে হবে না কার বউ।
- মানে।
- কিছু না, তুমি যাও ।
- কখন কী বলিস পাগল এর মতো, কিচ্ছু বুঝি না। তাঁড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে আয়। আমি গেলাম।
- খালি কী তাঁড়াতাড়ি, এক্ষুনি গেলাম বলে।
ফ্রেস হচ্ছি আর মনে মনে ভাবতেছি, যেমন রোমান্টিক ভয়ঙ্কর সপ্ন দেখলাম বকপালে কী আছে আল্লাহ্ জানে। বএক্কে বারে রেডি হয়ে প্রস্তুত, ববাহিরে গিয়ে দেখি ম্যাম বসে আছে।
- হ্যালো... ম্যাম ।
- সাহরিয়া... তুমি উঠছো। তোমার পায়ের ব্যাথা কমছে। এটা বলেই তো ম্যাডার জিব্বাই কামড় দিলো।
মা রান্না ঘর থেকে ছুঁটে আসলো, মা আর আব্বা সবাই তো আমার পায়ে দিকে চোখ বড় বড় করে তাঁকালো। এবার যদি বলে কেমনে এই সব হলো, কী বলমু আমিইইইইইইই !!!
আরো কিছু গল্পঃ পড়তে নিচে ক্লিক করুন
Collected from Facebook


.jpeg)