Type Here to Get Search Results !

রোমান্টিক বাংলা গল্পঃ পর্ব:০৫ [প্রিন্সিপাল ম্যাম]

 গল্পঃ 

প্রিন্সিপাল ম্যান

Part: 05 শাহরিয়ার ও প্রিন্সিপাল ম্যাম ইরা


- ম্যামের মুখ থেকে পায়ের ব্যাথার কথা শুনে। মা তো রান্না ঘর থেকে ছুঁটে আসছে, হাজার হলে ও একটা মাত্র পোলা।কিন্তুু এখন কী যে শুরু হবে একমাত্র আল্লাহ্ পাক জানে। কারণ একবার ফুটবল খেলতে গিয়ে  পড়ে গেছিলাম, আর সামান্য একটু কেঁটে গেছিলো। তার জন্য কত ডাক্তার, কবিরাজ এর কাছে নিয়ে গেছে সেটার কোন হিসেব নাই। আর এখন এর এটা তো বড় ধরণের যখম ।

- দেখি তোর পা... (মা)।

- ওহহহহহহহহ মা পা দেখবা ক্যান, আমার পা না দেখে রান্নার দিকে নজর দাও। ম্যাম কে কিছু খেতে দিছো নাকি এমনি বসাই রাখছো।

- সেটা.. তোর থেকে আমি ভালো জানি।

- হুমমমমম... এবার যাও রান্না করো।

- ঠিকআছে... থাক এখানে।

- ওহহহহহহহহ.... যা ভাবছিলাম সেটা হলো না,বাঁচলাম আমি। পায়ের দিকে দেখার মনযোগটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিলাম।

- সাহরিয়া পায়ে কেমনে লাগাইছিস। 

- না, মানে বাবা।

- আসলে আংকেল.. আজকে  কলেজে ফুটবল খেলতে গিয়ে পড়ে গেছিলো।

- ইরা... এই শয়তানটার জন্য তুমি কেনো মিথ্যা বলছো, আমি ভালো করেই জানি যে কেমন আঘাত লাগলে ঐ রকম ঔষধ দেই। আমি নিশ্চিত যে কোন উঁচু জায়গা থেকে লাফ দিছে আর এমন ভাবে লাগছে।

- আসলে মানে বাবা তুমি, কেমনে জানলা, আর তোমার তো হিসেবে ডাক্তার হওয়া উচিত ছিলো।

- এই টুকু জানার জন্য ডাক্তার হওয়া লাগে না, একটু বুদ্ধি থাকলেই হয়। আর সেটা তোর মতো গাধার নেই।  আমি সেটা ভালো করেই জানি। ঔষধ তো মনে হয় আনিস নাই।

- ঔষধ....মানে, ম্যাম নিয়ে দিছিলো, সেটা মনে হয় ঐ ডাক্তারের চেম্বারেই রেখে আসছি।

- বাহ্ ভালো... ইরা মা, তোমরা থাকো কেমন, আমি গিয়ে ঔষধ নিয়ে আসি। আর হ্যা মনে ভুলে ও যেন তোর মা এই পায়ে লাগার ব্যাপার না জানে। তাহলে পুরো বাড়ি মাথাই তুলে ফেলবে।

- ঠিকআছে তুমি যাও।

- আর হ্যা ইরার সাথে ভুলে ও কোন বেয়াদবি করবি না। ইরা এই শয়তানটা যদি তোমার সাথে কোন বেয়াদবি করে, সোঁজা আমাকে বলবা। ওর বাঁদরামি ছুঁটিয়ে ফেলবো।

- কী ফেলবা, সেটা জানি আমি, এবার যাও। 

- হ্যালো ম্যাম ....।

- ঐ কতবার হ্যালো বলতে হয় শুনি।

- ওহহহহহহ হ্যা তাই তো, ভুলেই গেছিলাম।

- তো ব্যাথা কমছে।

- আস্তে বলেন আস্তে... মা শুনলে আমাকে পাগল বানিয়ে দিবে।

- মা তোমাকে অনেক ভালোবাসে   তাই না।

- খালি অনেক.... অনেক অনেক অনেক, সে জন্য তো এত ভয়ে ভয়ে থাকি। এখন যদি আমার পায়ের এই অবস্থা দেখে, কী করবে আর না করবে একদম অস্থির হয়ে যাবে।

- হা হা হা.... আচ্ছা চলো তোমার রুমটা দেখি।

- আমার রুম.....।

- হুমমমমম।

- আচ্ছা চলেন।

- এইটা তোমার রুম।

- হুমমমমম। অনেক অগোছালো তাই না।

- না.... তোমার মতোই, তোমার রুম।

- হি হি হি.....।

- চুপপপপপপপপপপপ... খালি হাঁসি। তোমার ব্যাগ আমি তোমার মাকে দিছি বুচ্ছ।

- হুমমমমম.... আচ্ছা ম্যাম ব্যাগটা খুলেন নি তো।

- না..... তো কেনো।

- এমনি.... (ওহহহহহহহহহহ আর যাই হোক স্বপ্নের মতো কিছুই ঘটতেছে না) তবে ঘটলে ভালোই হতো, জরিয়ে ধরে পাপ্পি তো অন্তত দেওয়া হতো।

- ঐ কী ভাবছো....।

- না কিছু না,আচ্ছা ম্যাম ছাঁদে যাবেন।

- কেনো।

- এই সময়টাই ছাঁদে অনেক ভালো লাগে, আর রুমে বসে থেকে কী করবো , তাই বলছিলাম, যেতেই হবে সেটা না, তাও চলেন না।

- ঠিকআছে... চলো।ছাঁদে গেলাম।

- ম্যাম আপনাকে না চাঁদের আলোতে পরীর মতো লাগছে।

- দূর বোকা...মোটে ও না।

- না.... সত্যি...।

- আচ্ছা ঠিকআছে...। 

- ম্যাম....একটু দাঁড়ান আমি বসার জন্য কিছু একটা আসতেছি।

- আরে বসবা ক্যান দাঁড়িয়ে থেকেই তো ভালো লাগছে।

- আচ্ছা। একটা জিনিস দেখবেন।

- কী জিনিস?

- চলেন তাহলে... কী যে ভেবে হঠাৎ ম্যাম এর হাতটা ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম। অনেক সুন্দর নরম একটা হাত, একটু টেনে নিয়ে গিয়েই হাতটা ছেঁড়ে  দিলাম।

রোমান্টিক গল্প


- সরি.... ম্যাম... আমি না বুঝতে পারিনাই, না ভেঁবেই হাতটা ধরে ফেলছি.. সরি।

- ধরছই যখন, থাক আর সরি বলতে হবে না। হাত যখন ধরছই আবার ধরো আর কী দেখাবে দেখাও।

- হুমমমমম.... তখন যেমন চট করে হাতটা ধরে ফেলছিলাম, এখন আর তেমন চা করে ধরতে পারতেছি না।কেমন যেন হাতটা কাঁপছে।

- কী হলো ধরো।

- আর কিছু না ভেঁবে আবার হাতটা ধরেই ফেললাম।

- হা হা হা.... প্রথমবার তো এমন কাঁপনি। এখন হাত ধরতে এমন কাঁপতেছো কেনো শুনি।

- তখন তো না ভেঁবেই ধরছিলাম তাই। ম্যাম আপনাকে এখন তুমি করে বলি।

- হুমমমমম।

- আচ্ছা এখানে চোখ বন্ধ করে দাঁড়াও।

- কেনো।

- আরে চোখ বন্ধ করে দাঁড়াও না প্লিজ।

- ঠিকআছে করলাম। আস্তে আস্তে গিয়ে আমার তোতা পাখিটা নিয়ে আসলাম। ও আবার আমার থেকে বেশি শয়তান, যেখানে যেটা বলার দরকার সেটা  না বলে শুধু উল্টা পাল্টা বলে, আজকে কী বলে আল্লাহ্ জানে।

- ইরা...সরি সরি ম্যাম।

- সরি বলতে হবে না ইরাই বলো।

- ঠিকআছে... আচ্ছা ইরা এবার বলো যে... তোমার নাম কী?

- মানে... আমার নাম তুমি জানো না ।

- আরে ওটা না.... মনে করো তোমার সামনে কেউ একজন আছে, তাঁকে জিজ্ঞেস করার মতো করে বলো তোমার নাম কী?

- আচ্ছা তোমার নাম কী?।

- সা..হরিয়া..... সা..হরিয়া । এটা শুনেই ইরা চোখ থেকে হাত দুইটা সরালো।

- ওয়াও.... তোতা পাখি, এটা তোমার।

- হুমমমমম।

- অনেক কিউট তো... আচ্ছা ও সব বলতে পারে।

- হুমমমমমমম।

- আচ্ছা বলতো... ইরা ।

- ইরা... ইরা। 

- অনেক সুইট তো। তোতাপাখি টাকে একটা সাইটে রাখলাম।

- আচ্ছা ইরা তুমি কী তারা  গুনছো কখন ও।

- তারা কী গুনা যায় পাগল।

- তারা গুনা যায় না সেই জন্যই তো...

 কোনদিন গুনে শেষ হবে না আর প্রতিদিন গুনতে আসলেই নতুন নতুন মনে হবে, আর তারা গুনলে একা একা ও লাগবে না।

- তুমি একটা পাগল, সেইজন্য তুমিই গুনো তারা।

- হুমমমমম..... আচ্ছা ইরা আকাশের ঐ দিকে একটু তাঁকাও।

- কোনদিকে ....।

- ইরার একটু কাছে গেলাম,  এই যে আমার হাতে আঙ্গুলের সোঁজা তাঁকাও।

- আচ্ছা তাঁকালাম।

- দেখো যে সব এলোমেলো তারার মাঝে পাঁচটা তারা অনেক সুন্দর হয়ে আছে। খুব সহজেই চোখে পড়বে, দেখছো।

- ওয়াও.... সত্যি তো।

- হুমমমমম.... আমি চার বছর থেকে দেখছি এই পাঁচটা তারা কে , ঠিক একই রকম ভাবে আছে। তুমি ও প্রতিদিন দেখতে পারো।

- আচ্ছা।

এমন সময় মা আসলো,

- আচ্ছা তোদের গল্প করা হলো।

প্রেমের গল্প


- ওহহহহহহহহহ.. মা... তুমি ও না আমার মতোই। ওনি আমার ম্যাম, তাও আবার পিন্সিপাল ম্যাম। ওনাকে তো একটু তুমি করে বলবা। বলবা যে সাহরিয়া তোর কী ম্যাম এর সাথে গল্প করা হলো। 

- দেখছিস ইরা... কত বড় শয়তান,

 আমাকে ও কথা বলা শেখায়।

- তুমি যে ওনাকে তুই করে বললে... যদি ওনি রাগ করে তাহলে। 

- আচ্ছা ইরা আমি যদি তোকে তুই করে বলি তাহলে কী রাগ করবি।

- আন্টি ঐ পাগলের কথা একদম শুনবেন না, আপনি তো আমার মায়ের মতোই।

- পাগলি মা কে কেউ আপনি বলে, তুমি করে বলছি।

- ঠিকআছে।

- আজ যদি আমার তোর মতো একটা মেয়ে থাকতো, সব সময় আমার কাছে কাছে থাকতো। কত ভালো হতো।

- জীবনে ও না.......।

- কেনো...।

- আমার ভাগ কমে যেত না... (আর সে তোমার মেয়ে হলে আমি কাকে বিয়ে করতাম অদ্ভুত)।

- ঐ ফিস ফিস করে কী বলছি।

- কিছু না.... চলো খেতে দিবা কখন, খিদে লাগছে তো।

- আচ্ছা চল....এই দুই নাম্বার শয়তান টাকে আবার আনছিস কেনো।

- এমনি....।

- তুই ইরা কে নিয়ে নিচে যা আমি এটাকে রেখে আসতেছি।

- যেই না মা তোতাটাকে হাতে নিছে ওমনি বলতে লাগছে... ইরা ভালোবাসি, ইরা ভালোবাসি। 

- হা হা হা.... সাহরিয়া ওটা কী বলছে দেখো।

- হুমমমম... ও এমনি।

- অনেক সুন্দর করে কথা বলে কিন্তুু।

- হ্যা... পাশের বাসাই একটা মেয়ে তোতা ছিলো... তার নাম ও ইরা ছিলো। এই শয়তানটার আবার ওকে খুব ভালো লাগে। তাই আমি ওকে শিখিয়ে দিছিলাম, ইরা আমি তোমাকে ভালোবাসি, মাঝখানের টা হয়তো ভুলে গেছে, তাই আজ তোমার নাম শুনে ঐ আগের ইরার কথা হয়তো মনে পড়ছে।

- সত্যি.... এমনি ও হয়েছিলো।

- হুমমমমম।

- ঐ পাশের বাসার তোতা ইরা এখন কই।

- সেই দুঃখের কথা আর বইলো না। ঐ বাসার এক আন্টির বিড়াল আবার তোতা ইরা কে খুব ভালোবাসতো। কিন্তুু দুই আন্টির মধ্যে আবার সিরিয়ালের মহিলাদের মতো সম্পর্ক। আর তোতাটা ও বিড়াল কে পছন্দ করতো না। সেজন্য ঐ বাসার আন্টি আর বিড়ালটা মিলে... তোতাটাকে জোরে করে উঠিয়ে নিয়ে যেতে লাগে। আর ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

- সত্যি.... তোতাটার জন্য অনেক খারাপ লাগতেছে।

- হুমমমম.... সেই কষ্টে আমার তোতাটা প্রায় পাগল হয়েগেছিলো।

- কেনো।

- আরে ওদের মধ্যে কেবল একটু ভাব ভালোবাসার তৈরি হচ্ছিলো। তবে ও আমাকে বলছে, ও তাঁর ভালোবাসার প্রতিশোধ নিবেই নিবে। তাই তো আমি ওকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

- হা হা হা... তুমি দিচ্ছো প্রশিক্ষণ.. তোতাটার ও কপাল যে কী আছে... কে জানে।

- কোন।

- কেন আবার... তুমি তাঁর প্রশিক্ষক তাই।

- সাহরিয়া তুই যদি আমার একটা ও কথা শুনিস, আমি বললাম ইরা কে নিয়ে নিচে যা। আর তুই আবার বক বক শুরু করে দিছিস।

- ওহহহহহহহহ....মা, যাচ্ছি তো। নিচে গিয়ে খাবার টেবিলে বসে খাচ্ছি।

- ইরা... একদম সরম করবি না, নিজের বাড়ি মনে করে খাবি।

- হুমমমমম। আচ্ছা আন্টি আংকেল খাবে না।

- তাঁর কথা আর বলিশ না, একবার বাহিরে গেলে আর বাড়িতে আসতে তাঁর মনে থাকে না।

- কিন্তুু মা তুমি দেখো আমি সব সময় বউ এর কাছেই থাকবো... হি হি।

- ফাজিল... চুপপপপপপপপপপপ।

- আন্টি আমি এবার যাই।

- একি এখন এই রাতেই যাবি। আজকে থাক না আমাদের বাসাই।

- আজকে না আন্টি... ড্রাইভার নিচে গাড়ী নিয়ে চলে আসছে।

- ঠিকআছে.. তাহলে ভালো করে যাস... আর গিয়েই একটা ফোন দিস।

- আমার ফোনে... হি হি।

- ঠিকআছে।

সেদিন ম্যাম আমাদের বাসা থেকে গেছিলো ঠিকি তবে সাথে আমার মনটা ও তাঁর সাথে নিয়ে গেছিলো। বাড়িটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেছিলো। সব জায়গায় শুধু ইরা ম্যাম কেই ফিল করছিলাম।

 ম্যাম বাসাই গিয়ে ফোন করছিলো...  তবে একটু সময়ের জন্য, তবে সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট  ছিলো। এভাবে রাত কেঁটে সকাল, সকালে উঠে কলেজ যাওয়া, কলেজে  গিয়ে আঁড়ালে ম্যাম কে দেখা। বিকেলে তাঁর কাছে পড়তে যাওয়া,

কোন কোন দিন এখানে ওখানে যাওয়া, আস্তে আস্তে ম্যাম এর অনেকটা কাছে চলে গেলাম, তখন দুষ্টুমির পরিমাণটা আরো বেশি বেড়ে গেলো।  দিন গুলো সব যে স্বপ্নের মতো যাচ্ছিলো। এভাবেই দিন থেকে রাত, রাত থেকে সকাল, সকাল থেকে বিকেল, সন্ধা আবার রাত।  কোনদিক দিয়ে যে ছয়টা মাস পার  হয়ে গেলো... এর মধ্যেই ফাইনাল এক্সাম শুরু হয়ে গেলো।

ম্যাম আমাকে যা বলতো তাই পড়তো, প্রতিদিন এক্সাম হলে এসে এসে দেখে যেত। এমন করে এক্সামটা ও শেষ হয়ে গেলো। আজকেই লাষ্ট এক্সাম ছিলো, এক্সাম দিয়ে বাহিরে বের হলাম।

- এক্সাম তো শেষ, এখন তো আমাকে ভুলেই যাবা।

- দূর.... নিজেকে আমি ভুলতে পারি তোমাকে যাবেনা ভোলা।

- পাগল...... আচ্ছা আজকে বিকেলে  বাসার নিচে এসো ফোন দিও কেমন ঘুরতে যাবো। 

- কীইইইই...... সত্যিইইইইইইই।

- হুমমমমম সত্যি, আর এমন লাফ দিয়ে উঠতে হবে না, এবার যাও।

- ওকে।

 বিকেলে সেইরকম ফিটফাট হয়ে.... ম্যাম এর বাসার নিচে গেলাম....।

- হ্যালো..... ইরা... সরি ম্যাম, মে তো আগেয়া।

- ফাজিল নিচে দাঁড়াও, আমি আসতেছি।

- ওকে।  নিচে দাঁড়াই লাফাচ্ছি  আর মনে মনে ভাবতেছি, আজকে যদি ঘূর্ণিঝড়, সুনামি,সিডর, নার্গিস, নাসরিন যাই কিছু হোক না কেন...আজকে তো ম্যাম কে মনের কথা বলমুই বলমু।

পরে যদি তারে না পাই.... ওহহহহহহহহহহ সেটা তো আমি ভাঁবতে ও পারি না।।  হঠাৎ... গেট খোলার আওয়াজ পেঁয়ে, গেটের দিয়ে তাঁকিয়েই তো আমি হাাাাআআআআআআআআআআআ !!! 



আরো কিছু গল্পঃ পড়তে নিচে ক্লিক করুন


Collected from Facebook 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.